
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সোহেল ওরফে ‘ক্যাডার সোহেল’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার (৯ মে) সকালে র্যাব-১১ মিডিয়া কর্মকর্তা উজ্জল এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানান। এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে র্যাব-১১ বন্দরের মদনপুরের আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় সোহেল ও তার বাহিনী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। নতুন ভবন নির্মাণ, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা নদীপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে তার বাহিনীর সদস্যরা জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে।
র্যাব আরো জানায়, সোহেল বাহিনীর ছত্রছায়ায় বন্দর ও মদনপুর এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার তত্ত্বাবধানে এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের কেনাবেচা চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাসহ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এর কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক জানান, “শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।