1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
পরকীয়া সন্দেহে স্কুলছাত্র ইয়াছিন হত্যা, ৯ মাসে রহস্য উদঘাটন - যুগের নারায়ণগঞ্জ
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

পরকীয়া সন্দেহে স্কুলছাত্র ইয়াছিন হত্যা, ৯ মাসে রহস্য উদঘাটন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্তে উঠে এসেছে, পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়।

রোববার (১০ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য জানান।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— সোনারগাঁয়ের বরাব এলাকার মো. আজিম হোসাইন (২৭), সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার ফয়সাল (২৭) এবং রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকার নুসরাত জাহান মিম (২৪)।

এর মধ্যে প্রধান আসামি আজিম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ৫ মে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে আজিম হোসাইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ মে সকালে শনিরআখড়া এলাকা থেকে ফয়সাল এবং একই দিন সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থেকে নুসরাত জাহান মিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মিমের কাছ থেকে একটি সোনালি রঙের রেডমি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত ইয়াছিন আরাফাত নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি উত্তর চাষাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত বছরের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

পরদিন তার পরিবার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।

পরে ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের আশরাফ আলী অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘদিনেও থানা পুলিশ রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার আসামি আজিম হোসাইনের সঙ্গে নুসরাত জাহান মিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ২০২০ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে কলহ ও পরকীয়া সন্দেহ নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে আজিম তার স্ত্রীর মেসেঞ্জারে ‘ইয়াছিন আরাফাত’ নামে এক ব্যক্তির বার্তা দেখে ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে ব্লক করে দেন। পরে জানতে পারেন, ইয়াছিন আসলে মিমের ফুফাতো ভাই।

তবে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে না জানানোয় আজিম তাকে স্ত্রীর প্রেমিক সন্দেহ করতে থাকেন।

এই সন্দেহ থেকেই আজিম তার বন্ধু ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াছিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার দিন ইয়াছিন বাসা থেকে বের হলে তারা কৌশলে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে যান।

পরে আরও কয়েকজন সহযোগী যোগ দেয়।

একপর্যায়ে ডিএনডি লেকপাড় এলাকায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ লেকে ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হলেও ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট