1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

ফ্যাসিষ্ট বিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা স্মরণীয়- প্রতিমন্ত্রী নুরু

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জে আগেও আমি এসেছি। ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জের সাথে আমার একটা ভালো সম্পর্ক আছে। কারণ আমি যখন স্বৈরাচারের সময় আন্দোলন সংগ্রাম যখন শুরু করেছি- কোটা সংস্কার আন্দোলন- সেই সময় আমাদের বড় একটা সাপোর্টের জায়গা ছিল নারায়ণগঞ্জ। ওই সময় শিক্ষার্থীরা নারায়ণগঞ্জ থেকে গাড়ি ভরে শাহবাগে গিয়েছিলেন। প্রতিটি কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-যুবক-তরুণরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।”

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও যাত্রাবাড়িতে যে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, সেখানেও এই নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিভিন্নভাবে সাপোর্ট দিয়েছিল। লড়াই-সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের যে ভূমিকা তা স্মরণীয়।”

“রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম আমাদের মোটামুটি শেষ হয়েছে, এখন আমাদের মেধা, তর্ক ও যুক্তির লড়াই। মেধা ও যুক্তি দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলবো। গত দেড় দশক বা দুই যুগে অন্যান্য জায়গায় পরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে উঠলেও নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরকে নিয়ে খুব বেশি বা বড় পরিকল্পনা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।”

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “শীতলক্ষ্যা নদীকে যেকোনো পদ্ধতিতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর দূষণ রোধ করতে হবে। একদিকে শিল্প কারখানা যেমন অর্থনীতির প্রাণ, কর্মসংস্থানের বড় একটি জায়গা, একইসাথে আমাদের মনে রাখতে হবে বুড়িগঙ্গা তো আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে, শীতলক্ষ্যাও সেই দ্বারপ্রান্তে। এখন আমাদের পানি আনতে হয় মেঘনা থেকে।”

মেঘনার পানিও দূষিত হয়ে গেলে শহরাঞ্চলের মানুষে তীব্র পানি সংকটে পড়বে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গার পরে মেঘনার পানিতেও যদি দূষণের মাত্রা অতিরিক্ত চলে আসে তাহলে পানি আনতে হবে বঙ্গোপসাগর থেকে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের মতো শহর তখন ভয়াবহ পানি সংকটে পড়বে। সুতরাং পরিকল্পিত শহর গড়ার দিকে আমাদের যেতে হবে। শীতলক্ষ্যা দূষণ ও দখলমুক্ত কীভাবে করা যায় তা সংসদ সদস্যরা দেখবেন।”

“নারায়ণগঞ্জ যেহেতু চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলাকে সংযুক্ত করেছে, তাই এখানের যানজট সুপরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাছাড়া, শহরের ফুটপাতসহ সরকারি জায়গা, খাল সবকিছু দখল হয়ে যায়। এইগুলো যাতে দখল না হয় সেগুলো জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীরা খেয়াল রাখবেন”, যোগ করেন তিনি।

নুরুল হক আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বলছি। এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংসদ হবে পলিসি ডিবেটের জায়গা, গঠনমূলক রাষ্ট্র সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জায়গা। বিগত সময়ের রাজনৈতিক বিভাজন, বিদ্বেষ ছিল। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকারি বা বিরোধী দলের মৌলিক চিন্তা ও দর্শন অনেকটাই কাছাকাছি। তাই অযথা বিভাজন, বিদ্বেষের জিইয়ে রেখে সংঘাত, সহিসংতার রাজনীতি বাংলাদেশে আর ফিরতে দেওয়া যাবে না। আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”

গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু, ইসলামী আন্দোলনের মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, মহানগরের সমন্বয়কারী নিয়ামুর রশীদ বিপ্লব, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, গণঅধিকার পরিষদ মহানগরের সভাপতি আরিফ ভূঁইয়া, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মোমিন, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য নিরব রায়হান ও জাবেদ আলম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট