
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
বিদেশে পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের শ্যালকের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচিত ফতুল্লার শীর্ষস্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার আক্তার হোসেন দেশে ফিরে এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন হোসাইন হত্যা মামলা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জানা যায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি আক্তার এলাকায় ফিরেছেন। তাকে পুনরায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কুতুবআইল এলাকার মৃত আলাউদ্দিন হাজীর পুত্র আক্তার হোসেন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। সাবেক এমপি শামীম ওসমানের পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সখ্যতা থাকায় ফতুল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ স্থানীয় মহলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর, নিজ এলাকায় দলীয় আধিপত্য ও দখলদারিত্ব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসাইনকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের পর আইনি জটিলতা ও গণরোষ এড়াতে আক্তার অবৈধ পথে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। মামুন হত্যা মামলা ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন পর হঠাৎ আক্তারের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং নিজ এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা ফতুল্লাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি হওয়ার পরও আক্তার কীভাবে দেশে ফিরলেন এবং পুলিশের চোখের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আক্তারের এই মহড়া এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে জানতে ফতুল্লা মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আক্তার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।