1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
সপ্তাহে ‘আসেন’ আবার নিরাপদে চলেও যান! কার শেল্টারে সেলিম ওসমান? - যুগের নারায়ণগঞ্জ
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

সপ্তাহে ‘আসেন’ আবার নিরাপদে চলেও যান! কার শেল্টারে সেলিম ওসমান?

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এখনো অধরা।

একদিকে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলার অভিযোগ, অন্যদিকে তাকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক—বিশেষ করে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে অবস্থিত তার মালিকানাধীন উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড কারখানাকে কেন্দ্র করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী।

তারা নিয়মিত কারখানায় যাতায়াত করছেন এবং ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

তার দাবি, “সেলিম ওসমান প্রতি সপ্তাহে একবার করে উইজডম অ্যাটায়ার্সে আসেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়েন না।”

এই বক্তব্য ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রশ্ন উঠছে—যদি তিনি নিয়মিত আসেন, তবে কেন তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না ?

লাপাত্তা না আড়ালে ?

৫ আগস্টের পর থেকেই ওসমান পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যরা আড়ালে চলে যান। সেলিম ওসমান, তার ভাই শামীম ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমান—তিনজনই দীর্ঘদিন জনসমক্ষে নেই। যদিও শামীম ও আজমেরীর কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, কিন্তু সেলিম ওসমানের কোনো উপস্থিতি এখনো নিশ্চিতভাবে দেখা যায়নি।

তবে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ বলছেন খুলনাতেও তার অবস্থানের তথ্য রয়েছে।

অভিযানে মিলেনি খোঁজ

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল উইজডম অ্যাটায়ার্সে অভিযান চালিয়েও তাকে পায়নি। এরপর তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

প্রভাবের বিস্তার ও অভিযোগ

একসময় নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়িক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক প্রভাব ছিল সেলিম ওসমানের।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৭০টিরও বেশি ব্যবসায়ী সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করতেন। বিকেএমইএ, চেম্বার অব কমার্স, ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, হোসিয়ারি সমিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলোতে তার প্রভাব ছিল দৃশ্যমান।

এছাড়া টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও সমালোচকরা বলছেন, তার সময়কালে এসব সংগঠনে নির্বাচনের পরিবর্তে ‘সিলেকশন’ই ছিল প্রচলিত পদ্ধতি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও মামলার পরও কেন তিনি গ্রেফতার হচ্ছেন না ? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ থাকে এবং তার অবস্থান সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়, তবে তাকে গ্রেফতার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাই প্রকাশ করে।”

জনমনে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। একসময় প্রভাবশালী এই পরিবারের নীরবতা এখন নতুন রহস্য তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—এই নীরবতার আড়ালে কী চলছে ?

সেলিম ওসমানকে ঘিরে এই ধোঁয়াশা কবে কাটবে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট