1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
রূপগঞ্জে তিন শতাধিক স্পটে মাদক, ব্যর্থ প্রশাসন - যুগের নারায়ণগঞ্জ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে-ডিসি ফতুল্লায় শিশু হোসাইন হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ইয়াসিন বর্তমান প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানালেন এমপি মান্নান বন্দরের প্রজন্ম দল নেতা নাজির বহিষ্কার রূপগঞ্জে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি : এক মাসে ৬ ডাকাতি রূপগঞ্জে তিন শতাধিক স্পটে মাদক, ব্যর্থ প্রশাসন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে রাব্বি হারবালের শিক্ষা সামগ্রী ও উপহার বিতরণ সোনারগাঁয়ে তীব্র লোডশেডিং: বিপর্যস্ত জনজীবন জ্বালানির দাম বাড়লেও দ্রব্যমূ্ল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই: পাটমন্ত্রী সিদ্ধিরগঞ্জে থানা ব্যারাকে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

রূপগঞ্জে তিন শতাধিক স্পটে মাদক, ব্যর্থ প্রশাসন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
রূপগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যেন আগেভাগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে—আর সেই সুযোগে নিরাপদে সরে পড়ছে মাদককারবারিরা।

ফলে একের পর এক অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে, আর একই সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য।

তথ্য বলছে, রূপগঞ্জের অন্তত তিন শতাধিক স্পটে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা।

চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র একাই পরিণত হয়েছে মাদকের বড় ঘাঁটিতে—যেখানে শতাধিক স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে ৩০-৩২টি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।

গোলাকান্দাইল, তারাবো, কায়েতপাড়া, ভুলতা থেকে শুরু করে পূর্বাচল উপশহর পর্যন্ত বিস্তৃত এই মাদক জাল এখন কার্যত অপ্রতিরোধ্য।

পরিত্যক্ত ভবন, বালুর মাঠ, বাগান কিংবা ঘিঞ্জি বস্তি—সবখানেই গড়ে উঠেছে মাদকের ডিপো।

ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল থেকে শুরু করে ইনজেকশনজাত ভয়ংকর মাদকও এখন হাতের নাগালে। অভিযোগ রয়েছে, নারী, শিশু-কিশোর এমনকি ভাসমান জনগোষ্ঠীকেও ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক পরিবহনে—যা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘিরে গড়ে ওঠা শত শত শিল্পকারখানার শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। খুপরি ঘর ও মেসগুলোতে ঘুরে ঘুরে মাদক সরবরাহ করছে ডিলাররা—যেন পুরো এলাকা একটি উন্মুক্ত বাজার।

মাদক আসছে একাধিক রুটে—বিশেষ করে বালু নদ ও শীতলক্ষ্যা নদীপথে প্রায় বাধাহীনভাবে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য। একই সঙ্গে সড়কপথে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জ হয়ে রূপগঞ্জে ঢুকছে মাদকের চালান। ভুলতা এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বড় ট্রানজিট পয়েন্ট, যা কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—অভিযানের আগাম তথ্য পাচ্ছে মাদকচক্র। ফলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই এলাকা ফাঁকা করে দেয় কারবারিরা। এতে প্রশ্ন উঠছে—তথ্য ফাঁসের উৎস কোথায় ?

ইতোমধ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রূপগঞ্জ থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এতে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং গত এক যুগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ২০-২২ জন খুন হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে—এই সিন্ডিকেট কতটা শক্তিশালী ও নির্মম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা থাকলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। মাদকচক্র দিন দিন আরও সংগঠিত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ হয়ে পড়ছে জিম্মি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রমের কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কতদিন এভাবে চলবে? মাদকচক্রের এই বেপরোয়া দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা কবে আসবে ?

রূপগঞ্জ এখন একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—এখানে মাদক শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ সামাজিক মহামারিতে।

এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর মূল্য হবে আরও ভয়ঙ্কর।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট