
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সম্প্রতি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। প্রকাশ্যে গোলাগুলি হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো অস্ত্রধারীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করতে পারেনি। অবৈধ অস্ত্রধারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ফতুল্লায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার নারী মাদক ব্যবসায়ী বিলকিসের ক্যাডার সাগর অবৈধ পিস্তল থেকে ম্যাগাজিন খুলে তা থেকে একটা একটা করে গুলি বের করছে-এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাগর একটি ঘরে দরজা বন্ধ করে নিজের মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছে। পিস্তল থেকে ম্যাগাজিন খুলে তা থেকে গুলি বের করছে। সাগর ইসদাইর বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়রা বলেন, ফতুল্লার ইসদাইর বাজার ও চাষাঢ়া স্টেশন এলাকা মাদক ব্যবসার বড় একটি ঘাঁটি। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাদক খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়। এ ঘাঁটির দখল নিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৭-৮ জন খুন হয়েছে। অপহরণের পর ৬ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে মোবারক ও নজরুল নামে দুজন। এ ঘাঁটির প্রথম মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন সীমা। তার কাছ থেকে ঘাঁটির দখল নিতে রাজ্জাক বিরোধে জড়ায়। এতে খুন হয় একাধিক। প্রতিটি হত্যা ছিল আলোচিত। সম্প্রতি রাজ্জাক বাহিনীর হাতে খুন হয় রায়হান বাবুর্চি ও অপহরণের পর খুন হয় শুভ। প্রকাশ্যে গুলি করা হয় রানা ও অন্তর নামে দুই বন্ধুকে। সেই গুলি লক্ষ্যবস্তু হয়ে কুকুরের মুখে বিদ্ধ হয়। সম্প্রতি রাজ্জাক শুভ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় মাদকের ওই ঘাঁটি এখন বিলকিসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও বিলকিস শুভ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর পরও ইসদাইর বাজার ও চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি।
১২ এপ্রিল সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটি চাঁদনী হাউজিং এলাকায় একটি গার্মেন্টসের ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে যুবদলের দুই গ্রুপ দেশি-বিদেশি অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় গ্রুপের গোলাগুলিতে এমরান নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র ও বিএনপি নেতা খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়। ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় ফতুল্লার কুতুবপুর পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গারপুল এলাকায় ডিবি পরিচয়ে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী সুমনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে একজনকে আটক করলেও এখন পর্যন্ত অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ফতুল্লা এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। কোনো নিরাপত্তা নেই।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, আসলেই প্রবেশ পথ খোলা রেখে অভিযান সফল হবে না। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চেকপোস্টগুলো চালু করার ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান রয়েছে।