
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর যুবদল কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির উপস্থিতিতে তার অনুসারীরা এ হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে রক্তদান, বৃক্ষমেলা, বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সে সময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অনেক সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় সামনের সারিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে যুবদল কর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তবে উপস্থিতি সিনিয়র নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিন্তু সাময়িকভাবে থেমে যাওয়া উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত মারামারিতে গড়ায়।
অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার সময় অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। কিলঘুসিতে তার ঠোঁট ফেটে যায়, রক্তাক্ত হন তিনি। এমনকি একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার পরনের জামা-কাপড়ও টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
হামলার শিকার অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার দাবি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রনির সঙ্গে তার তর্ক হয়েছিল ঠিকই, তবে সিনিয়র নেতারা বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছিলেন। পরে জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে তিনি ও রনি একসঙ্গে নিচে নামলে রনির অনুসারীরাই তার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় যুবদলের চার কর্মীকে ইতোমধ্যে সাংগঠনিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন মো. মামুন, মো. কাওসার, নিতাই চৌধুরী ও মো. দেলোয়ার হোসেন।
দলের সিনিয়র একজন নেতার ওপর এমন হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল নয়, এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।