
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপির এক নেতাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চার যুবদল কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া। বহিষ্কৃতরা হলেন মো. মামুন, মো. কাওসার, নিতাই চৌধুরী ও মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষমেলা, বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় সামনের সারিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে কয়েকজন যুবদল কর্মীর বাকবিতণ্ডা হয়। তবে সে সময় উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিকে উদ্দেশ্য করে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া নেতাকর্মীদের সামনে ‘গত ১৪ বছর কী করেছেন’ এমন মন্তব্য করেন। এতে রনি ক্ষুব্ধ হন বলে উপস্থিতরা জানান। পরে রনির অনুসারীরা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দুপুর দুইটার দিকে অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মারলে তার ঠোঁট ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এ সময় তার পরনের জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
ঘটনার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল নয়, এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামলার শিকার অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়েছিল।
তবে সিনিয়র নেতারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। পরে প্রশাসকের কক্ষ থেকে তিনি ও রনি একসঙ্গে নিচে নামলেও রনির অনুসারীরাই তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, জেলা পরিষদের মতো একটি স্থানে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অন্যায় করেছে। তাই সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত চারজনকে যুবদলের সব ধরনের পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।