1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
উপজেলা পরিষদের সভায় আ.লীগের ৬ চেয়ারম্যান, আড়াইহাজার জুড়ে সমালোচনা - যুগের নারায়ণগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেয়াদবদের মাইনাস করে হেফাজতের কমিটি গঠনের আহ্বান জানালেন মা.আউয়াল জিমখানা কলোনীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৯ প্রাক্তন প্রেমিক কতৃক হামলার শিকার গণ অধিকার পরিষেদর নেত্রী উপজেলা পরিষদের সভায় আ.লীগের ৬ চেয়ারম্যান, আড়াইহাজার জুড়ে সমালোচনা ৩ দফা দাবিতে শহরে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের বিক্ষোভ ছাত্র ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার পুনর্গঠন উন্নয়নে পিছিয়ে ফতুল্লা : সিটি কর্পোরেশন চান এমপি, বিএনপি নেতা রিয়াদ চান পৌরসভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ খানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফতুল্লায় পুলিশের উপর হামলা, চাঁদাবাজদের ছিনিয়ে নিল সন্ত্রাসীরা উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামালা, আসামি দেড়শ

উপজেলা পরিষদের সভায় আ.লীগের ৬ চেয়ারম্যান, আড়াইহাজার জুড়ে সমালোচনা

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি হয়েও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের সভায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন ইউপি চেয়ারম্যান।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত মাসিক সমন্বয় সভায় তাদের উপস্থিতি দেখা যায়।

এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান।

তার ভাষ্য, মাসিক সমন্বয় বা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চেয়ারম্যানরা অংশ নেয়নি। উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে একই হলরুমে চারটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের উপর সরকারের একটি পাইলট প্রকল্প নিয়ে সভায় ইউপি সচিবদের অনুরোধে চেয়ারম্যানদের ডাকা হয়েছিল।
ইউপি চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ মামলার আসামি কিনা তা ইউএনও’র জানা নেই বলেও দাবি করেন।

তবে, স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের ওই ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন কক্ষের বাইরে অবস্থান করলেও পরের মাসিক সমন্বয় সভায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

যদিও এসব ইউপি চেয়ারম্যানরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে পলাতক ছিলেন। সরাসরি প্রকাশ্যে উপজেলা পরিষদের সভায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সভায় উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আছেন হাইজাদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলী হোসেন, বিশনন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, উচিতপুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইসমাইল হোসেন, খাগকান্দা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুল ইসলাম, মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক ডালিম।

স্থানীয়রা জানান, এই ছয়জন চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। স্থানীয়ভাবে এসব ইউপি চেয়ারম্যান ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন অনেকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মামলারও আসামি তারা।

তবে, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে কালাপাহাড়িয়ার ফয়জুল হক ডালিম গ্রেপ্তারের পর জেল খেটেছেন এবং বর্তমানে জামিনে আছেন। তবে, বাকি পাঁচজনের জামিনের ব্যাপারে পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এদিকে, আড়াইহাজার উপজেলার দশ ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে বাকি ছয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানরাই সপদে বহাল রয়েছেন। ফলে, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় অন্তত দুইজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হত্যা মামলার আসামিরা যেখানে আইনের আওতায় আসার কথা, সেখানে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী সভায় উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। এই পরিস্থিতি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ছিলাম। মাসিক সভায় আমি থাকলে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানদের পুলিশের হাতে তুলে দিতাম।”

“ছাত্রহত্য্যার দাগ না শুকাতেই আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানদের পুনর্বাসন কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না,” যোগ করেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক যুবাইর সরদার বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে তাদের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভা করার বিষয়টি ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রক্রিয়া বলে আমরা মনে করি। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই।”

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামিরা ইউএনও অফিসে মিটিং করেছে, এমন তথ্য পাইনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি। তবে, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করা হবে। তাদের মামলার বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট