
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী দোসরদের গুলিতে নিহত রাকিব হত্যা মামলার চার্জশীট আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসময় চার্জশিট থেকে দায়েরকৃত মামলার এজাহারভূক্ত আসামিদের মধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে অব্যাহতির আবেদন করার পর থেকে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
এ মামলায় মার্চ মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান, সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন শুভসহ আওয়ামী লীগের ১৬৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। তবে এ মামলার আরেকটি অংশ অর্থাৎ সাধারণ আসামিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারকাজ সম্পন্ন হবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।
জানা যায়, চার্জশিটে অব্যাহতির আবেদনে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরিফুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বি প্রান্ত, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মেম্বার, কুতুবপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আল-মামুন মিন্টু ভুঁইয়া, কুতুবপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ, আওয়ামী লীগের পাগলা রেলস্টেশন প্যারাডাইস সিটি ইউনিট কমিটির সভাপতি আলমগীর ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ ক্যাডার টিক্কা, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম চুন্নু।
মামলার তদন্তকারী অফিসার নারায়ণগঞ্জ সিআইডির ইন্সপেক্টর জয়নাল আবেদীন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে হামলা বা হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া যায়নি তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তদন্তকারী অফিসার দ্রুত ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
রাকিবের বাবা মোশারফ হোসেনের দায়ের করা হত্যা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ন্যায় দাবি থেকে বিতাড়িত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুকুমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র হাতে হামলা করে। তখন সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের গুলি মাথায় লেগে রাকিব মারা যায়।
রাকিবের বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ফতুল্লার দাপা এলাকায় বরকত মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার স্ত্রী রাশিদা বেগম অসুস্থ, ঘরেই থাকেন। মেয়ে সাথীকে বিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী ছেলে শাকিল বাড়ির কাছেই একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ৩ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। ছোট ছেলে রাকিব ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে এএমএস নামে একটি গার্মেন্টসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাটিং সেকশনে কাজ করতেন। তার বেতনের টাকায় ঘর ভাড়া আর বাজার করা হতো। এই কর্মজীবী ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কেউ যেন চার্জশিট থেকে বাদ না যায়।