1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
ফতুল্লার বক্তাবলীতে ইট ভাটার শ্রমিকদের নীরব সংগ্রাম - যুগের নারায়ণগঞ্জ
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

ফতুল্লার বক্তাবলীতে ইট ভাটার শ্রমিকদের নীরব সংগ্রাম

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলি এলাকার ইট ভাটাগুলোতে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় শ্রমিকদের ব্যস্ততা। খোলা আকাশের নিচে তীব্র রোদ, ধুলাবালি, আগুনের উত্তাপ আর কালো ধোঁয়ার মাঝেই কাটে তাদের জীবনের বড় একটি সময়। শহরের মানুষ যখন নিরাপদ ঘরে অবস্থান করেন, তখন এই শ্রমিকরাই অন্যের স্বপ্নের দালান গড়তে নিরলস পরিশ্রম করে যান।

ইট ভাটার শ্রমিকদের জীবনে আরাম বা বিশ্রামের সুযোগ খুবই কম। দিনের পর দিন একই কাজ, একই ক্লান্তি আর একই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চলে তাদের জীবনযুদ্ধ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পোড়া মাটি, কাদা আর ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করেই সংসারের চাকা সচল রাখতে হয় তাদের।

শ্রমিকদের অনেকেই জানান, বছরের প্রায় ছয় মাস টানা ভাটায় কাজ করতে হয়। মৌসুম শেষ হলে আবার নতুন কাজের খোঁজে অন্য এলাকায় ছুটতে হয়। কারণ কাজ বন্ধ মানেই সংসারে অভাব, রান্নার চুলা নিভে যাওয়া এবং পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

দৈনিক প্রায় পাঁচশো টাকা মজুরিতে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের পরিবার চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বাড়েনি আয়। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়ে অনেক সময় নিজেরাই না খেয়ে থাকতে হয় বলে জানান তারা।

শুধু আর্থিক সংকটই নয়, এই শ্রমিক পরিবারের শিশুদের জীবনেও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। অনেক শিশুর হাতে বই-খাতা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের হাতে দেখা যায় পোড়া ইট, কাদা আর শ্রমের ভার। কেউ পরিবারের কাজে সহায়তা করছে, কেউ ইট টানছে, আবার কেউ ভাটার আশপাশেই সময় কাটাচ্ছে। দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুল ছাড়িয়ে কাজে নামাতে বাধ্য হচ্ছে।

ইট ভাটার পরিবেশ শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব থেকেও বঞ্চিত করছে। খেলাধুলা, স্কুল বা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নের বদলে তাদের বেড়ে ওঠা ধোঁয়া আর কষ্টের পরিবেশে। অনেক শিশু জানেই না, এই ভাটার বাইরেও অন্যরকম একটি সুন্দর পৃথিবী রয়েছে।

বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ছোট ছোট কুঁড়ে ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় পুরো পরিবারকে। টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে, সেই পানির মধ্যেই রান্না, খাওয়া ও ঘুম—সবকিছু চালিয়ে নিতে হয়। তবুও অভিযোগ খুব কমই শোনা যায় তাদের কণ্ঠে। কারণ কষ্ট আর অভাবই যেন তাদের জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিও তাদের নিত্যসঙ্গী। সারাদিন ধোঁয়া, ধুলাবালি ও আগুনের তাপে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

শ্রমিকদের ভাষায়, তাদের পরিশ্রমেই শহরে তৈরি হয় দালান, রাস্তা ও বড় বড় স্থাপনা। কিন্তু যাদের ঘামে গড়ে ওঠে উন্নয়নের কাঠামো, তাদের জীবনই পড়ে আছে অবহেলা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।

আগুন, ধোঁয়া আর কঠোর পরিশ্রমের মাঝেও থেমে নেই তাদের জীবন। সীমাহীন কষ্টকে সঙ্গী করেই তারা বেঁচে আছেন—শুধু পরিবারকে টিকিয়ে রাখার আশায়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট