
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলার ঘটনার পরদিনই পুনর্বাসসনের আগে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করার দাবিতে সিটি প্রশাসককে স্মারকলিপি দিতে নগরভবনের সামনে জড়ো হন হকাররা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় পরে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে চাষাঢ়া থেকে মিছিল বের করেন কয়েকশ’ হকার। মিছিলটি এসে নগরভবনের সামনে থামে। পরে হকাররা গেটের বাইরে অবস্থান নিলে সেখানে উপস্থিত হয় পুলিশ।
এ সময় হকারদের কয়েকজন প্রতিনিধি ছাড়া বাকিদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে হকারদের প্রতিনিধি দল নগরভবনের নিচতলায় তথ্যকেন্দ্রে স্মারকলিপি জমা দিয়ে চলে যান।
নগরভবনে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের মহানগর শাখার সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনির নেতৃত্বে নাসিক প্রশাসক বারাবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য সহকারী মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন সুমনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন হকার বলেন, “আমরা আইন মানতে প্রস্তুত। কিন্তু আমাদের বাঁচার পথও থাকতে হবে। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলে আমরা সেই সময়েই ব্যবসা করবো। পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ এবং অন্তত কিছু সময়ের জন্য ফুটপাতে বসার সুযোগ যেন আমাদের দেওয়া হয়।”
স্মারকলিপি প্রদানের পরে হকার নেতা মিজানুর রহমান রনি সংবাদিকদের বলেন, “আমরা গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু সেই স্মারকলিপির কোনো সাড়া শব্দ দেননি তারা। ফলে আমরা আবারও স্মারকলিপি দিলাম।”
“নারায়ণগঞ্জ নগরী যেমন সুন্দর আপনারা চান, আমরাও চাই। স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন। সেই ক্ষেত্রে আমি হকার ভাইদের নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা ছিল, সেটা ঠিক করে দেবো। মেইন সড়কে কোনো হকার থাকবে না,” যোগ করেন রনি।
তবে, এই সময় নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর আগের দিন হামলার ঘটনার বিষয়ে হকারদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন রনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ হকার নেতা বলেন, “আমার হকার ভাইরা কোনো মারধর করতে পারে না। আমার হকার ভাইরা মারধরের সঙ্গে জড়িত নয়। কিছু উস্কানিমূলক লোক আছে, যারা গণতন্ত্রকে নষ্ট করতে চায়। তারা অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তারা আমাদের হকারদের কেউ নয়।”
এমনকি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন, সবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হকার মনিরুজ্জামান, আজাদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় নূর মসজিদের সামনে উচ্ছেদ অভিযানে থাকা নাসিকের কর্মীদের উপর হামলা চালায় কয়েকজন হকার। এতে কয়েকজন উচ্ছেদ কর্মী আহত হন।