
বন্দর প্রতিনিধি : বন্দরে ঠিকাদারি ব্যবসা একক নিয়ন্ত্রণ নিতে মো. মিরাজুল ইসলাম মেরাজ(২৩) নামে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তার কর্মচারি আল আমিন(২১)কে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে ইফতারের আগমুহুর্তে বন্দর রুপালী আবাসিক এলাকায় আয়মান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় নাসিক ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিনের চাচাতো ভাই সোয়েব জড়িত থাকার অভিযোগে কাউন্সিলরের বাড়ি সহ ১৫-১৬ টি বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুর করে নিহতের আত্নীয় স্বজন ও অনুসারীরা। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মিরাজুল ইসলাম মেরাজ ছালেহনগর এলাকার আজহারুল ইসলামের ছেলে ও আয়মান ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
এলোপাথারি কোপানো অবস্থায় ব্যবসায়ী মেরাজ ও কর্মচারি আল আমিনকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মেরাজের মৃত্যু হয়। কর্মচারির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেরাজ ও আল আমিন ওয়ার্কশপে বসে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় ৬-৭জন সন্ত্রাসী মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দারালো অস্ত্র দিয়ে ওয়ার্কশপ মালিক ও কর্মচারিকে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সালেহনগর এলাকার সোয়েব গ্রুপ । পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিরাজুল ইসলাম মেরাজের মৃত্যু হয়। রাতেই মেরাজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় হত্যাকান্ডের সঙ্গে নাসিক ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহীন মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর সহ সালেহনগর এলাকায় ১৫-১৬টি বাড়ি ভাংচুর করেছে উত্তেজিত এলাকাবাসী।হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে ২১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কাজল মিয়া হামলার শিকার হয়েছেন।
নিহত মেরাজের পরিবারের অভিযোগ, কাউন্সিলর শাহীনের চাচাতো ভাই সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে সন্ত্রাসী সোয়েব ও জলিলুর রহমানের ছেলে রবিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী পিংকি, বাবু, মানিক, রানা ও নাদিম সহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন মিলে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মেরাজকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় ওয়ার্কশপ কর্মচারিকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা । বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, রুপালী আবাসিক এলাকায় ব্যবসা একক নিয়ন্ত্রণ নিতে সালেহনগর এলাকার সোয়েব গ্রুপ মেরাজ ও আল আমিন নামের দুই জনকে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে। পরে দুইজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। সোমবার রাতে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মেরাজের মৃত্যু হয়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যহত রয়েছে।