
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে হত্যা মামলার এক আসামির উপস্থিতিতে আরেকটি হত্যা মামলা রফাদফা করার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাকির হোসেন। যিনি নিজেও একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত!
একই সাথে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান পরিবারের অন্যতম দালাল হিসেবেও রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি!
এই জাকির হোসেনকে নারায়ণগঞ্জের সকলেই ‘ঘি জাকির’ হিসেবেই চিনে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামে সংঘটিত মুছা হত্যাকাণ্ডটি ৩১ লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩০ মে) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই দেন-দরবার চলে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের উপস্থিতিতেই এই আপস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে স্থানীয় সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে ছিলেন সমাজ মাদবর রহমতউল্লাহ, কামাল মাদবর, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী, আব্দুল ওয়াহাব সরকার, শাহীন রাজু, আব্দুল মান্নান ভেন্ডারসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে জুরি বোর্ডের সদস্য রহমতউল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, “আমি একা ছিলাম না, অনেকেই ছিল। দুই পক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিল।” তবে কত টাকায় আপস হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।
অন্যদিকে, হত্যা মামলা রফাদফার অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে অভিযুক্ত ওয়ার্ড মেম্বার রওশন আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল ওয়াহাব সরকার শালিশ বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, “ভাই, কোনো সমস্যা হয়নি।” তবে বিস্তারিত বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৮নং ওয়ার্ড মেম্বার হাজ্বী মোক্তার হোসেন জানান, “চেয়ারম্যান বিচার পরিষদের বাইরে ছিলাম, কীভাবে হয়েছে তা আমি জানি না।”
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন মুছা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, একটি হত্যা মামলার আসামি হয়েও আরেকটি হত্যা মামলার আপস-মীমাংসায় চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনায় আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।