
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘ সময় পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থতা এবং স্থানীয় নানা ইস্যুতে বিতর্কের জেরে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে শীঘ্রই নতুন শক্তিশালী কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। আলোচনায় আছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের পুত্র ও বর্তমান মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। ধারণা করা হচ্ছে, সাখাওয়াত-আশা জুটির হাতেই উঠতে পারে মহানগর বিএনপির আগামীর নেতৃত্ব।
বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু পদ হারাতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মহানগরীর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে না পারা, নেতাকর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ ও এবং দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে তিনি ‘মাইনাস’ হতে পারেন বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
শীর্ষ পদের আলোচনায় বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম বেশ জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। যার ক্লিন ইমেজ এবং রাজপথের অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনায় রেখেছে।
মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যিনি করোনাকালীন মানবিক কাজের জন্য দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও দলীয় সকল কর্মসূচীতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছেন।
বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলও, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুও আছেন আলোচনায়।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সবুর খান সেন্টু ও অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদসহ বিভিন্ন স্থানীয় জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা নেতাদের নতুন কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হকারদের প্রশ্রয় দিয়েছেন বা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়হীনতায় ভুগেছেন, তাদের ওপর দলের হাইকমান্ড কিছুটা অসন্তুষ্ট। ফলে অনেক প্রভাবশালী নেতাই এই দফায় কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে আড়াই বছরেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে না পারায় কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে, যার প্রতিফলন ঘটতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।