
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ (৪০) এবং তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)। অভিযোগের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রান্নাঘরে কাজ করার সময় অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে সন্তানের ভয় দেখিয়ে পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে হাত ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাসায় ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যায় স্বামী বাড়িতে ফিরলে পুরো বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে তিনি সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, “মামলা গ্রহণের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। জামপুর ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না। পাশাপাশি যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।