
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর মাঠে গড়াতে এখনো বাকি কয়েক দিন। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ওপার বাংলার ফুটবল প্রেমীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে তুমুল উন্মাদনা। আর সেই উন্মাদনার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন নারায়ণগঞ্জের আফজাল মুন্সি।
পেশায় রঙের ঠিকাদার আফজাল মুন্সি ২০১৮ ও ২০২২ সালের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের একতলা বাড়িটিকে সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৯০ গলাচিপা এলাকার এই বাড়িটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক নামে পরিচিত ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’।
তীব্র তাপদাহ আর ব্যস্ততার মাঝেও বাড়ির বিভিন্ন অংশে রঙের কাজ করছেন আফজাল মুন্সি নিজেই। প্রিয় দলের প্রতি নিখুঁত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে অন্য কোনো শ্রমিকের ওপর ভরসা করেননি তিনি। গত এক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে নিজের হাতে তুলি দিয়ে দেয়াল, প্রধান ফটক ও সিঁড়িঘর রাঙিয়ে তুলছেন আকাশি-সাদা রঙে। পাশে থেকে তাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ জোগাচ্ছেন স্ত্রী ও সন্তানরা।
কাজের ফাঁকে আফজাল মুন্সি বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আগে দিয়েগো ম্যারাডোনার ভক্ত ছিলাম, এখন লিওনেল মেসির। আর্জেন্টিনার কোনো খেলা কখনো মিস করি না। অন্যকে দিয়ে রঙ করালে মনে হতো কিছু একটা অপূর্ণ থেকে গেছে। তাই নিজেই তুলি হাতে নিয়েছি।’
কেবল বাড়ি রাঙানোই নয়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আফজালের রয়েছে রাজকীয় প্রস্তুতি। পুরো বাড়ি রঙ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি খেলা দেখার জন্য সরাসরি ফ্রান্স থেকে আনিয়েছেন একটি বিশেষ প্রজেক্টর। বাড়ির সামনে বড় পর্দায় এলাকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে খেলা দেখার ব্যবস্থা করছেন তিনি। এছাড়া আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচের দিন থাকবে বিশেষ খাবারের (ভুরিভোজ) আয়োজন। বিশ্বকাপ এলেই এই বাড়িটি যেন রূপ নেয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এক মিলনমেলায়।
আফজাল মুন্সির এই ফুটবল প্রীতিতে শামিল তার পুরো পরিবার। শ্বশুর আউয়াল শেখ, স্ত্রী আঞ্জুমান আক্তার, বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম মুন্না, পুত্রবধূ এবং ছোট ছেলে মেহেদী সবাই আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত।
আফজাল মুন্সির স্ত্রী আঞ্জুমান আক্তার জানান, বিশ্বকাপ এলেই মনে হয় আর্জেন্টিনাই জিতবে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও আমাদের খুব উৎসাহ দেন। এলাকার ছোট-বড় সবাই তো বটেই, এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজনও এখন ঠিকানা খুঁজতে ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’ নামটিই ব্যবহার করেন।
বাবার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গর্বিত ছোট ছেলে মেহেদীও। তার মতে, বাড়িটি যখন আকাশি-সাদা রঙে সেজে ওঠে, তখন পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এদিকে এই ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’কে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের হাওয়া। প্রতিবেশীদের অনেকেই নিজেদের বাড়ি ও ছাদে প্রিয় দলের পতাকা এবং ব্যানার টাঙাতে শুরু করেছেন। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই গলাচিপার প্রতিটি কোণায় এখন শুধু অপেক্ষা—আকাশি-সাদা শিবিরের মাঠ কাঁপানোর।