1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
দুই ভাইয়ের চাঁদাবাজির বলি অটোচালক মমিন - যুগের নারায়ণগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

দুই ভাইয়ের চাঁদাবাজির বলি অটোচালক মমিন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের বন্ধু পরিচয়ে সোনারগাঁয়ে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে সেই ওরা ১১ জনের কুশিলব শাফির উদ্দীন মজনু ও তার ভাই মুসফিকুর রহমান মোহন। দুই ভাইয়ের চাঁদাবাজির কারনে বলি হলেন এক অসহায় নিরীহ অটোচালক মমিন মিয়া। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দরিকান্দি বাসস্টান্ডে চাঁদাবাজ শাহিনকে কথিত লাইনম্যান বসিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাফির উদ্দীন মজনু ও তার ছোট ভাই জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মশফিকুর রহমান মোহন। মজনু ও মোহনের দাপুটে চাঁদাবাজ শাহিন দীর্ঘদিন যাবত চাঁদাবাজি করে আসছে। অটো ও সিএনজি চালকেরা চাঁদা দিতে না চাইলে তাদের মারধর করার ঘটনা নতুন নয়। এবার ১০ টাকা চাঁদা না দেয়ায় মমিন নামের এক সিএনজি চালককেও পিটিয়ে হত্যা করেছে মজনু ও মোহনের নিয়োগকৃত চাঁদাবাজ শাহিন।

এদিকে ২০ মে বুধবার এই ঘটনার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা। চাঁদাবাজ শাহিনের পাশাপাশি তার গডফাদার মজনু ও মোহনের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। নিহত চালকের নাম মো. মমিন (৩৫)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে। বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১৭ মে রবিবার বিকেলে উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মজনু ও মোহনের ঘনিষ্টজন বাসস্ট্যান্ডের লাইনম্যান শাহিন চালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা আদায়ের কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন। মমিন পুনরায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ- ৫ আগস্টের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পরিবহন স্টান্ড থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি করে আসছেন বিএনপির দুই নেতা। এ নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের টনক না লড়ায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। উপজেলার দড়িকান্দি স্টান্ড সহ সনমান্দি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত স্টান্ড দখল করে চাঁদাবাজি করছেন শাফির উদ্দীন মজনু ও তার ছোট ভাই যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান মোহন। গত বছর কুরবানীর ঈদে অলিপুরা পশুর হাটটিও জোরপূর্বক টেন্ডারবাজি করে নিজ নামে দেয় এই যুবদল নেতা মোহন।

স্থানীয়রা আরো জানান, উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক দড়িকান্দি থেকে বাংলাবাজার হয়ে অলিপুরা বাজার এবং সেখান থেকে সনমান্দি বাজার হয়ে প্রেমেরবাজার পর্যন্ত। পৃথক এই রুটে অটো রিক্সা সিএনজি স্টান্ড থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছিলো কথিত লাইনম্যানেরা। লাইনম্যানদের দাবি বিএনপি নেতা শাফির উদ্দীন মজনু ও মোহন লাইনম্যানদের চাঁদা সংগ্রহ করতে দায়িত্ব দিয়েছেন।

দড়িকান্দি স্টান্ড শাহিন প্রতিটি অটো থেকে যাত্রা প্রতি ১০ টাকা ও সিএনজি থেকে যাত্রা প্রতি ১০ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। যেখানে বাংলাবাজার যেতে আগে অটো রিক্সার ভাড়া ছিল ২০ টাকা, সেখানে চাঁদাবাজির কারনে এখন অটোর ভাড়া নিচ্ছে ৪০ টাকা। দশ টাকা চাঁদা দিয়েও ৩০ টাকা পাচ্ছে অটো ও সিএনজি চালকেরা। একইভাবে ভারি যানবাহন থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫’শ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করে শাহিন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সাথে অশোভন আচরণ করে আসছিলো এমনকি মারধর করা হচ্ছিল। কিন্তু বিএনপির দুই নেতার ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দড়িকান্দি স্টান্ডসহ এসব স্টান্ড থেকে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে প্রশাসনের নাকের ঠগায়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট