1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
স্বপ্নের শহরে এসে মৃত্যু : পাশাপাশি কবরে একই পরিবারের ৫ প্রাণ - যুগের নারায়ণগঞ্জ
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফতুল্লায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ২ নারায়ণগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের অনিয়ম: ২৬ পোশাক কারখানা ধ্বংসের মুখে, তদন্তের জোর দাবি সাংবাদিককে হুমকি, চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে জিম্মি চালকরা! সুবিধাবঞ্চিত ও বয়স্ক মানুষদের শিক্ষায় ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিলেন ‘ফুলের হাসি স্কুল’ নারায়ণগঞ্জে যুব শক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি পালিত রূপগঞ্জে অপরাধ দমনে এগিয়ে আসার আহ্বান ওসি’র নারায়ণগঞ্জে দুই মাসে পুলিশ-র‍্যাবের ওপর ৬ হামলা, জনমনে আতঙ্ক চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সংবর্ধনা চাঁদপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী, একঝলক দেখতে নারায়ণগঞ্জের সড়কে নেতাকর্মীরা ফতুল্লায় ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

স্বপ্নের শহরে এসে মৃত্যু : পাশাপাশি কবরে একই পরিবারের ৫ প্রাণ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বিষাদের আবহ।

আজ শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় নিহতদের।

এর আগে স্থানীয় উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের জানাজার নামাজ। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নিহতরা হলেন—মীর কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩২), ছেলে মুন্না (১২) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (৭) ও কথা (৪)।

জীবিকার তাগিদে পটুয়াখালী ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন মীর কালাম।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর পথে পথে ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন স্বচ্ছল জীবনের।

জানা গেছে, গত রোববার সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ভাড়া বাসায় রান্নার সময় হঠাৎ গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে।

এতে একই পরিবারের পাঁচজনই মারাত্মক দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একে একে সবাই মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

প্রথমে মারা যান মীর কালাম। এরপর পর্যায়ক্রমে তার তিন সন্তান এবং সর্বশেষ শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্ত্রী সালমা বেগম। পরে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই পরিবারের সকলের একসঙ্গে মৃত্যু এবং পাশাপাশি একাধিক কবর খোঁড়ার দৃশ্য তাদের জীবনে এই প্রথম। এতে পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতদের প্রতিবেশী কামাল বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো কবর খোঁড়ার দৃশ্য কখনো দেখিনি। খুব কষ্ট লাগছে। এমন মৃত্যু যেন আর কারো না হয়।”

আরেক প্রতিবেশী আজিম বলেন, “পরিবারের সুখের আশায় শহরে গিয়েছিল কালাম। স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে গ্রামে ঘর করবে। কিন্তু সব স্বপ্ন এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। তাদের পরিবারে এখন আর কেউ রইল না।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানো ও দাফনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কনকদিয়া গ্রামের আকাশ-বাতাস।

একটি পরিবারের স্বপ্ন, হাসি আর ভবিষ্যৎ—সবই যেন এক মুহূর্তে নিভে গেছে গ্যাস বিস্ফোরণের ভয়াল থাবায়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট