
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিতর্কে জড়িয়েছেন।
মারামারি ও হত্যা চেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এমন পদক্ষেপ নতুন করে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময় পিংকি আক্তারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানার ২০২৩ সালের হত্যা চেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত রাসেল মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার এবং সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও এই ঘটনার পর তাদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
বিশেষ করে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেল চৌধুরী ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেনের নাম বেশি আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যা চেষ্টা মামলায় চার্জশিট রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফতুল্লা এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের জন্য এমন দৃশ্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। তারা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, বক্তাবলী এলাকায় একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যারা এসেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে—এ তথ্য তার জানা ছিল না। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে পিংকি আক্তার বলেন, তার সঙ্গে যারা গিয়েছিলেন তারা সবাই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ায় তাদের নিয়েই তিনি গিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বক্তাবলী ইউনিয়নে নতুন নেতৃত্বের শুরুতেই সৃষ্ট এই বিতর্ক স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।