
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “আগে পেট, তার পিঠ”। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের অবস্থা এখন তথৈবচ। প্রায় ২৫ লক্ষাধিক মানুষের এই শিল্পাঞ্চল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এর প্রধান কারণ—তীব্র যানবাহন সংকট।
জনসংখ্যার তুলনায় নগণ্য সুযোগ-সুবিধা
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানার মধ্যে ফতুল্লা মডেল থানা এলাকাটি সবচেয়ে জনবহুল। জেলার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এই থানা এলাকার মধ্যেই অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশাল এই জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ বিশেষ ভূমিকা পালন করলেও সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না তারা।
’শ্বাসকষ্টের রোগী’র মতো ধুঁকছে পুরনো গাড়ি
থানায় সচল গাড়ির সংখ্যা যেমন নগণ্য, যে দুই-একটি গাড়ি আছে সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। অবস্থা দেখে মনে হয় যেন কোনো ‘শ্বাসকষ্টের রোগী’ ইনহেলার নিয়ে বেঁচে আছে। একদিন মেরামত করলে পরের দুই দিনই গাড়িগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশের টহল কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারও হবে কি না সন্দেহ। একজন মানুষ বাইসাইকেল চালিয়েও এর চেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এমন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি দিয়ে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের পিছু নেওয়া বা মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিকল্প যখন রিকুইজিশন করা সিএনজি-ইজিবাইক
ফতুল্লা থানার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। এই ব্যস্ততম সড়কসহ অলিগলিতে টহল দিতে পুলিশের এখন একমাত্র ভরসা রিকুইজিশন করা সিএনজি অটোরিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। দ্রুত গতির কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে এই ধীরগতির যানবাহনে করে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক মেহেদী জানান, যানবাহনের এই সমস্যাটি কেবল ফতুল্লায় নয়, সারা বাংলাদেশের পুলিশেরই একটি প্রধান সংকট। তিনি বলেন: ”যানবাহনের চাহিদার বিষয়টি জেলা পুলিশ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না, এটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে দেখা হয়। আমরা ইতিমধ্যে নতুন যানবাহনের জন্য আবেদন করে রেখেছি। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান পাওয়া যাবে।”
শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এই এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে ফতুল্লা মডেল থানার যানবাহন সংকট দূর করা এখন সময়ের দাবি।