
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মত যখন পক্ষে বিপক্ষে সরব তখন এক হকার নেতার দ্বিমুখী অবস্থান নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়ন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি আগেরদিন ‘পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগান দিলেও পরদিনই তাকে দেখা গেছে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে হকার উচ্ছেদ অভিযানে।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের কালিরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে থেকে হকার উচ্ছেদের পক্ষে মিছিল বের করে মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা। ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ অন্য নেতারাও।
এ কার্যক্রমে দেখা যায় জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়ন দলের নেতা কেএম মিজানুর রহমান রনিকে। তাকে সামনে রেখে বক্তব্যও দেন বিএনপি নেতা আবুল কাউসার আশা ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সমাবেশ শেষে উচ্ছেদের পক্ষে মিছিলেও ছিলেন।
এই হকারনেতা রনি আগেরদিন সোমবার দুপুরে হকারদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। তিনি শহরের ফুটপাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকার বসতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াসহ ৫ দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানকে স্মারকলিপি প্রদানের সময়ও নগরভবনে ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো হকারদের কারণে দীর্ঘ বছর ধরে হাঁটাচলায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী। সম্প্রতি হকারদের উচ্ছেদ করে ফুটপাতমুক্ত করায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন সবাই। কিন্তু উচ্ছেদের পর পুনর্বাসনের দাবিতে গত সোমবার সড়কে নেমে আসেন হকাররা।
এ সময় হকার নেতাদের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে সংহতি জানিয়ে মিছিলে ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। যদিও এ দুই নেতার মধ্যে অঞ্জন দাস কয়েকদিন আগে হকারদের উচ্ছেদ অভিযানেও ছিলেন। ফলে অঞ্জন দাসের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
যদিও গণসংহতি আন্দোলন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হকারদের মিছিলে থাকার বিষয়টি অঞ্জন দাসের একক সিদ্ধান্ত, দলীয় নয়। দল নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত দিয়ে চলাচলের পক্ষে। নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থ নিয়ে এ শহরে গণসংহতি আন্দোলন কাজ করে বলেও দাবি তাদের।
অঞ্জন দাসের পর জাতীয়তাবাদী হকার নেতা মিজানুর রহমান রনির অবস্থান নিয়েও চলছে শহরে আলোচনা। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে হকারদের পুনরায় ফুটপাতে নামাতে কি কেউ নেপথ্যে ইন্ধন দিচ্ছেন কিনা।