
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
বিতর্ক যেনো পিছুই ছাড়ছে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে ঘিরে! নিজ অনুসারী কিংবা আপনজনদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে বারবরই খবর শিরোনাম হয়ে আসছেন তিনি।
সম্প্রতি, ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকার জুট সেক্টর দখলকে কেন্দ্র করে নিজ অনুসারী যুবদল নেতাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকায় মব সৃষ্টি করার ঘটনায় খবরের পাতার শিরোনাম হয়েছিলেন মশিউর রহমান রনি। এমনকি মব সৃষ্টির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় হুকুমের আসামি হয়ে ফেরারী জীবন অতিবাহিত করছেন তিনি।
সর্বশেষ, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ওয়েস্টিজ (ঝুট) ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মালামালসহ ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে রনির ভাগিনা সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে উঠে এসেছে, বিসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা সুমন আহম্মেদের কাছে সিফাত (২৭), সোহেল (৩০), শান্ত (২৮), হাসান (৩০), জিসান (২৫)সহ ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল।
বৈধ ব্যবসা পরিচালনার কারণে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়—যা স্পষ্টভাবে একটি সংগঠিত চাঁদাবাজ চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়।
গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বিসিক ৩ নম্বর গেট এলাকায় ভুক্তভোগীর অফিসে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালানো হয়।
এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনির ভাগিনা সিফাতের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আবারো আলোচনায় আসেন মশিউর রহমান রনি। ভিডিওতে দেখা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের আগ মুহুর্তে শহরের মাাদাইর এলাকায় একটি অনুষ্টানে সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান গণসংযোগ করেন। গণসংযোগ শুরুর আগ মুহুর্তে ছাত্রলীগ ক্যাডার সিফাত সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের পক্ষে হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে নৌকা মার্কার শ্লোগানো শ্লোগানে মাসদাইর এলাকার রাস্তা প্রকম্পিত করে তুলেন।
ঐ সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির আপন মামাতো ভাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাফেল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। নেটিজেনদের বলতে শুনা গেছে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি হচ্ছেন আওয়ামী পরিবারের সন্তান। যুবদল নেতা রনি’র মামাতো ভাই রাফেল প্রধান ছিলেন গডফাদারখ্যাত সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহচর এবং হাবিবুর রহমান রিয়াদ ছিলেন অয়ন ওসমানের ভ্যানগার্ড। ছাত্রলীগ নেতা রাফেল এবং রিয়াদের শেল্টারে ঐ সময়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন অপর ছাত্রলীগ নেতা সিফাত। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মাসদাইরসহ আশে পাশের এলাকা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এই সিফাত। ৫-ই আগষ্টের পর হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে এই ছাত্রলীগ ক্যাডার সিফাত চলে আসে যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনির ছায়াতলে। যুবদল নেতা রনি’র প্রভাব খাটিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর এবং শিল্পাঞ্চলখ্যাত এলাকা বিসিকের ঝুট সেক্টর দখলে নেমে পড়েন এই সিফাত। এমতবস্থায়, ফতুল্লার বিএনপির ত্যাগীরা বলেন, এখন আমাদের পরিবারের অন্তত একজন করে হলেও ভিন্নদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পরামর্শ দিব। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন ক্ষমতার স্বাদ যাতে নষ্ট না হয়!