1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
ব্যর্থ নারায়ণগঞ্জের ৫ এমপি! - যুগের নারায়ণগঞ্জ
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

ব্যর্থ নারায়ণগঞ্জের ৫ এমপি!

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ এক সময় দেশের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকা মাদক, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ।

নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় জেলার পাঁচ সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জেলার ফতুল্লা, সদর-বন্দর, সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বহু এলাকায় সন্ধ্যার পর মাদক বিক্রির স্পটগুলো কার্যত প্রকাশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে তরুণ সমাজের একটি অংশ অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

সম্প্রতি ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার মাদক আস্তানায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা, নগদ অর্থ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ। অভিযানে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল।

একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। মাদক কারবারিদের হামলায় কয়েকজন র‍্যাব-পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা জেলার অপরাধ পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাদকের বিস্তারের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতির ঘটনায়। বিশেষ করে ফজরের নামাজের সময়, গভীর রাত এবং ভোরবেলায় বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও মহাসড়কের আশপাশে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। অনেক এলাকায় মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এমনকি কয়েক মাস আগে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তাও ছিনতাইয়ের শিকার হন। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে না আসায় অপরাধ চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর ফলে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে।

ফতুল্লার ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “আগে রাতে দোকান বন্ধ করে নিশ্চিন্তে বাসায় ফিরতাম। এখন মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতেও ভয় লাগে। কোথা থেকে ছিনতাইকারী এসে আক্রমণ করবে তার নিশ্চয়তা নেই।”

রূপগঞ্জের বাসিন্দা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা শুনেছিলাম মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। কিন্তু বাস্তবে এখনও সেই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। বরং অনেক এলাকায় মাদকের বিস্তার আরও বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

সোনারগাঁওয়ের এক অভিভাবক বলেন, “সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি আমাদের সন্তানদের নিয়ে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অনেক তরুণ মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। এটা বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটে পড়বে।”

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অপরাধীদের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আক্রান্ত হওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরাসরি সংসদ সদস্যদের না হলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জনগণও তাদের কাছ থেকে সেই নেতৃত্বই প্রত্যাশা করে।

তাদের মতে, মাদক, সন্ত্রাস ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ, নিয়মিত সমন্বয় সভা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণ না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, নির্বাচনের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার দায় থেকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্যের কেউই জনমতের বিচারে মুক্ত থাকতে পারবেন না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট