1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
ফতুল্লায় থানার গেইটেই “দালাল শহিদের” ভয়ঙ্কর প্রতারণা - যুগের নারায়ণগঞ্জ
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধ কারখানায় নিরাপত্তাকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু নাসিক প্রশাসকের কাছে ১৪ দফা দাবি এনসিপির ফতুল্লায় জুটের গোডাউনে অগ্নিকান্ড, লাখ টাকার ক্ষতি ফতুল্লায় থানার গেইটেই “দালাল শহিদের” ভয়ঙ্কর প্রতারণা র‍্যাব-১১’র অভিযানে সোনারগাঁয়ে বিপুল মাদকসহ আটক ২, রূপগঞ্জে ম্যাগাজিন-গুলি উদ্ধার টিকটকে প্রেম অত:পর চাঁদপুর থেকে ডেকে এনে নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ২ আড়াইহাজারে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২ নবজাতককে ফেলার চেষ্টা: অভাবী ঘরের শিশুটির ‘দায়িত্ব’ নিলেন দম্পতি এবার অপকর্ম ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে কুত্তা দীলিপ! সিদ্ধিরগঞ্জে ১ হাজার ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ফতুল্লায় থানার গেইটেই “দালাল শহিদের” ভয়ঙ্কর প্রতারণা

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে
Oplus_131072

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার প্রধান ফটক সংলগ্ন গলির ভেতরে অবস্থিত ‘শহিদ কম্পিউটার’। সাইনবোর্ডে কম্পিউটার কম্পোজ ও অনলাইন সেবার কথা লেখা থাকলেও, ভেতরে রয়েছে তার অকল্পনীয় ভিন্ন এক জগৎ।

একটি নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানা যায়, এই দোকানের আড়ালে নিজেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন শহিদ। যিনি এখন পুরো থানা এলাকায় ‘দালাল শহিদ’ নামে পরিচিত।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে দীর্ঘ দিন ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

দালাল শহিদ তার দোকানে থাই গ্লাস দিয়ে একটি পৃথক আলিশান চেম্বার তৈরি করেছেন। সেখানে দামি চেয়ারে বসে তিনি বিচারকের ভঙ্গিতে মানুষকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার ভাব করে বসে থাকেন।

এদিকে ফতুল্লা মডেল থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যখন থানার ফটকে এসে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, তখনই শহিদ বা তার সহযোগীরা তাদের এই চেম্বারে নিয়ে আসেন। সেখানে নিজেকে কখনো ‘ওসি’, কখনো ‘এসপি’, আবার কখনো পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘বিশেষ উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে আশ্বঃস্ত করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা যায়, তার দোকানে অভিযোগ লিখতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে ‘দারোগা’ পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং পুলিশ পাঠানোর নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।

তাছাড়া বেশির ভাগ সময় দালাল শহীদকে ডিউটি অফিসারের রুমে আবার কখনো অফিসার ডেক্স-এ ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে করে সাধারণ মানুষ তাকে পুলিশ ভেবে নিয়ে সহজেই তার ফাঁদে পড়ে যায়।

দালাল শহিদের প্রতারণার কৌশল অত্যন্ত সুনিপুণ ও ভয়ংকর। দুই পক্ষকেই জিম্মি করে ফাঁদে ফেলার অভিনব কৌশল, যখন কোনো ব্যক্তি অভিযোগ বা এজাহার লিখতে তার কাছে আসেন, শহিদ অত্যন্ত কৌশলে বিবাদী বা প্রতিপক্ষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর বাদীকে চেম্বারে বসিয়ে রেখেই গোপনে প্রতিপক্ষকে ফোন করে মামলার ভয় দেখান। গ্রেফতার এড়াতে বা মামলা থেকে নাম কাটাতে তাদের নিজের চেম্বারের সামনে আসতে বলেন এবং দূর থেকে তাদের দেখান । মূলত বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকেই অন্ধাকারে রেখে এক পক্ষকে মামলার ভয় এবং অন্য পক্ষকে আইনি

সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান নেশা ও পেশাবলে সূত্রে জানা যায়।

৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপটে ‘এজাহার বাণিজ্য: গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শহিদের দালালি ও প্রতারণা নতুন এবং আরও ভয়ংকর ভাবে যুক্ত হয়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলা বা এজাহার লিখতে আসা সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করছেন তিনি।

বাদী হয়তো এজাহারে নির্দিষ্ট কিছু নাম দিচ্ছেন, কিন্তু শহিদ তার বাইরেও অনেক স্বচ্ছ ও নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফোন করে বলছেন “আপনার নামে বৈষম্যবিরোধী মামলা হচ্ছে, এখনই টাকা নিয়ে আমার চেম্বারে চলে আসেন।”

এভাবে শত শত নির্দোষ মানুষকে মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয় দেখিয়ে তিনি কোটিপতি বনে গেছেন। অথচ বাদী পক্ষ অনেক ক্ষেত্রে ওইসব নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম জানেনও না।

সুত্রে আরও জানা যায় যে, ফতুল্লা থানায় একটি মামলার চুড়ান্ত চার্জসিট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এজাহারভুক্ত আসামীকে বাদ দেয়ার ঘটনারও জন্ম দিয়েছিলেন এ সহিদ।

বিষয়টি বাদীপক্ষের লোকজন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও জানালে তার টনক লড়ে। পরবর্তীতে চার্জসিট থেকে বাদ দেয়া সেই আসামীর সাথে পুলিশ যোগাযোগ করলে মুল কাহিনীটুকু উঠে আসে আর ভেসে উঠে সহিদের দুই নম্বরী কর্মকান্ড। সেই ঘটনায় তৎকালীন ওসি এবং উক্ত এসআইসহ থানা পুলিশের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিল এ সহিদ। এমন অনেক অঘটনের ঘটনা রয়েছে এ কম্পোজার সহিদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) এবং জেলা পুলিশ সুপারের অগোচরে দালাল শহিদ এই অন্ধকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের নাম ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা দিচ্ছেন যে, তার মাধ্যম ছাড়া থানায় কোনো কাজ সম্ভব নয়। এতে করে সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর আস্থা হারাচ্ছে এবং সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্বকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম তিনি পুলিশের লোক বা বড় কোনো অফিসার। তার সাজানো চেম্বার আর কথা বলার ধরণ দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি একজন সাধারণ রাইটার। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ‘মিনি থানা’ পরিচালনাকারী প্রতারক দালাল শহিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনী ব্যবস্থা ও শাস্তির দাবি করছি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট