
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
রাজধানীর পাশের শহর হিসেবে নারায়ণগঞ্জের অপার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি এ শহরের অব্যবস্থাপনার ‘টুকটাক না, দীর্ঘমেয়াদী’ সমাধান করার দিকে তাগিদ দিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় গণসংহতি আন্দোলনের ইফতার আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের উৎপাদনশীল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং অত্যন্ত প্রাচীন একটা শহর। অর্থনৈতিকভাবে নারায়ণগঞ্জ কোনো নতুন গুরুত্বের জায়গা নয়। নারায়ণগঞ্জ সবসময় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল। প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। সেই তুলনায় নারায়ণগঞ্জের যে পরিবর্তন হওয়া দরকার সেই পরিবর্তনগুলো হয়নি।”
‘এখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে খুনোখুনি হতো’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, “ত্বকীর মতো একজন নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হলো। এইরকম একটা ত্রাসের রাজত্বের শহরে পরিণত করা হয়েছে। অথচ নারায়ণগঞ্জ ঢাকার পাশেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে বিরাট সম্ভাবনার জায়গা ছিল।”
“এখানে শিক্ষার একটা বিরাট কেন্দ্র হতে পারতো। দুর্ভাগ্যক্রমে কোনো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জে তৈরি হয়নি। নারায়ণগঞ্জে একটা ভালো হাসপাতাল ঠিকমত নেই। আপনারাও ট্র্যাফিকের অব্যবস্থাপনার কথা বলেছেন। টুকটাক সমাধান না, দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সেই জায়গাগুলো নিয়ে পরিকল্পনা আপনারা করেন। আশা করি এ সরকার বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তারা এইসব পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ সরকার বাংলাদেশকে গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“আজকে বিরোধী দলও আছে। আমাদের সম্মিলিতভাবেই দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। দেশ গড়ে তোলার কাজটা কারো একক নয়। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ দরকার। এবং সেইটা যদি আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের সামনে যেমন অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, তেমনি আবার অপার সম্ভাবনাও আছে।”
বিকশিত অর্থনীতি ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ডের’ মতো বর্তমান সরকারের অঙ্গিকারের কয়েকটি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
“মানুষকে স্বস্তি দেওয়া সরকারের প্রথম লক্ষ্য। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে দেশটাকে পরিবর্তন করা যায় সেইটাই সরকার চেষ্টা করছে”, যোগ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ, র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ইসলামী আন্দোলনের মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি নাহিদ হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু জাফর আহমেদ বাবুল প্রমুখ।