1. admin@jugernarayanganj.com : jugernaraya nganj nganj : jugernaraya nganj nganj
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ-১:বেসরকারি ফলাফলে জয়ী দিপু ভূঁইয়া ভোট গ্রহণের সময় শেষে কেন্দ্রে প্রবেশ, অবরুদ্ধ শাহ আলম, লাঠিচার্জে আহত ১৫ নারায়ণগঞ্জে ৫৪ শতাংশের বেশি ভোট কাস্ট: ডিসি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউলের নির্বাচন বর্জন নারায়ণগঞ্জ: শতবর্ষী বৃদ্ধ বললেন ‘শান্তিতেই ভোট দিছি’ ভোট দিতে পাইরা ভালো লাগতেছে সোনারগাঁয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি নারায়ণগঞ্জ-৪: মা-বোনরা রোদে কষ্ট করছে, ভোট গ্রহনে ধীর গতির অভিযোগ কাসেমীর নারায়ণগঞ্জে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন হচ্ছে, জেলা জুড়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: মেজর আয়াজ সুষ্টু নির্বাচনই ছিল আমাদের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য-অন্জন দাস নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার-আবুল কালাম

নারায়ণগঞ্জ: শতবর্ষী বৃদ্ধ বললেন ‘শান্তিতেই ভোট দিছি’ ভোট দিতে পাইরা ভালো লাগতেছে

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের কাশিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দারুচ্ছুন্নাহ কামিল মাদরাসায় দুটি একাডেমিক ভবনে আলাদা দুটি কেন্দ্র। একটি নারী ভোটকেন্দ্র এবং অপরটি পুরুষ ভোটকেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্র দুটিতে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।

৯৭ নম্বর পুরুষ ভোটকেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ৩ হাজার ৮৬১ জন। এক ঘণ্টায় সেখানে ভোট পড়েছে ৩২৮টি।

অন্যদিকে, ৯৮ নম্বর নারী ভোটকেন্দ্রটিতে এক ঘণ্টায় ১০০টি ভোট পড়েছে। এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭২টি।

আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থীসহ মোট ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দুটি কেন্দ্রেই ছয় প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে পাওয়া গেছে।

এই প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী (খেজুর গাছ), জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন (শাপলা কলি), রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী (হাতি), ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (ফুটবল) ও মো. শাহ আলম (হরিণ)।

বাকিদের মধ্যে মাত্র কেবল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী সেলিম আহমেদের (একতারা) একজনকে একটি ভোটকক্ষে পাওয়া গেছে।

যদিও আসনটিতে প্রার্থীদের নামে ব্যালট ইস্যু হলেও জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা (লাঙল) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন (রিকশা) সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আগেই।

এ ছাড়া, প্রার্থী আছেন বাসদের সেলিম মাহমুদ (মই), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সুলাইমান দেওয়ান (মোটরগাড়ি), সিপিবির ইকবাল হোসেন (কাস্তে), গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া (ট্রাক)।

নারী কেন্দ্রটির ২০৬ নম্বর ভোটকক্ষে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। পাশের অপর প্রার্থীর এজেন্ট জানান, তিনি ছিলেন। কিছুক্ষণ আগে বাইরে গেছেন।

অন্যদিকে, একটি কক্ষে খেজুর গাছ প্রতীকের এজেন্ট পৌনে ৯টার দিকে কেন্দ্রে ঢোকেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতিতে পরে তিনি ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন। যদিও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলছিলেন, ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরুর পর কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. খলিলুল্লাহ বলেন, “নারী ভোটাররা সাধারণত বাড়ির কাজ সেরে তারপর ভোট দিতে আসেন। কিন্তু সকাল সকালই অনেক ভোটার আসছেন। স্বাভাবিক গতিতেই ভোট চলছে। তবে, বেলা বাড়ার পর চাপ বাড়বে।”

এ কেন্দ্রটির একটি কক্ষেই দুটি গোপন বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

পুরুষ কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জুলফিকার হাবিব বলেন, “ভোটাররা সুন্দরভাবে ভোট দিচ্ছেন। কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দুটি ব্যালট থাকলেও খুব দেরি হচ্ছে না।”

পুরুষ কেন্দ্রটির একটি কক্ষ পৃথক দুটি ভোটকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুরুষ কেন্দ্রটিতে সকাল সকালই ভোট দেন ১০৭ বছর বয়সী সিরাজ মিয়া। ৭টা ৩৭ মিনিটে কুঁজো হয়ে হেঁটে হেঁটে তিনি কেন্দ্রে ঢোকেন। তাকে সহযোগিতা করেন আনসার সদস্যরা। তাকে ভোটকক্ষ খুঁজতেও সহযোগিতা করেন তারা। ৭টা ৫১ মিনিটে তিনি ভোট দিয়ে বের হন।

এ বৃদ্ধ বলেন, হাঁটা পথের দূরত্বে তার বাড়ি। তার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সকাল সকাল ভোট দিতে চলে এসেছেন।

“শান্তিতেই ভোট দিছি। ভোট দিতে পাইরা ভালো লাগতেছে।”

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা পোহাতে হয়নি বলে জানান গৃহিনী সুমি আক্তার। তিনি বলেন, “অনেকদিন পর শান্তিমত ভোট দিছি। ভোট তো এইরকমই হওয়া উচিত।”

কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা ভিড় করতে দেখা যায়। একাধিকবার তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে অদূরে একই ইউনিয়নের গোয়ালবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে ছিল ভোটার উপস্থিতি। তবে ভোটগ্রহণ শুরু হয় ১০ মিনিট দেরিতে ৭টা ৪০ মিনিটে। অনেক প্রার্থীর এজেন্ট তখনো এসে পৌঁছায়নি।

আসনটিতে ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে থাকলেও দুই কেন্দ্রের কোনো ভোটকক্ষেই সাত জনের বেশি প্রার্থীর এজেন্ট দেখা যায়নি।

গোয়ালবন্দ কেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ৫৭৬ জন। এক ঘণ্টা পর কেন্দ্রটির ছয় ভোটকক্ষে ১৮১ জন ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে ২ নম্বর ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ৭৩৯ জন। কেন্দ্রটির আট ভোটকক্ষে ১৪০ জন ভোট দিয়েছেন।

ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দুটি পুরুষ এবং দুটি নারী কেন্দ্র।

পুরুষের ২ নম্বর কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৯৩০ জন। দুই ঘণ্টায় ৩০০ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন আতিকুর রহমান।

তবে, এ কেন্দ্রটির ৫ নম্বর ভোটকক্ষে ২৩ মিনিট পর্যন্ত কোনো ভোট পড়েনি। সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে প্রথম একজন ভোটার সেখানে ভোট দেন।

পুরুষের ৭ নম্বর কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ২ হাজার ৯৮৬ জন। ১ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২০৯টি।

নারীদের ৯ নম্বর কেন্দ্রটিতে মোট ৩ হাজার ২০০ ভোটারের মধ্যে দুই ঘণ্টায় ৩৫৬টি ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাকিল হোসেন।

নারীদের ১০ নম্বর কেন্দ্রটির মোট ভোটার ৩ হাজার ২৪১ জন। দুই ঘণ্টায় কেন্দ্রটিতে ২৫০টি ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে সাংবাদিকদের ১০ মিনিটের বেশি না থাকতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। তবে, তাদের এ নির্দেশনাটি ভোটকেন্দ্র নয়, ভোটকক্ষের ভেতরে প্রযোজ্য জানালে পরে তারা এ ব্যাপারে আর বাধা দেননি।

কেন্দ্রটিতে ভোটারদের পরিবহনের জন্য প্রার্থীরা ইজিবাইকের ব্যবস্থা করতে দেখা যায়।

৭৪ নম্বর কুতুবআইল মডেল সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকতে এবং সেখানে অবস্থান করতে পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের বাধা দেন। যদিও পরে তাদেরকে কমিশনের নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করে অন্তত প্রবেশ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

বিদ্যালয়টির ফটক বন্ধ করে প্রার্থীদের এজেন্টের একে একে পুলিশ চেক করে কেন্দ্রে প্রবেশ করান। কেন্দ্রে ৭টা ২৮ মিনিটে প্রথম ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হয়। এবং ৭টা ৩৩ মিনিট থেকে ভোটাররা ভোট দেওয়া শুরু করেন।

এই কেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকেই পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেলেও নারী ভোটারদের দেখা যায়নি। তবে ৭টা ৪০ মিনিট থেকে ধীরে ধীরে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ নেছারউদ্দিন খান বলেন, সকাল থেকেই স্বাভাবিক ভাবেই ভোট গ্রহণ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি।

এদিকে কেন্দ্রে এজেন্ট রয়েছে, বিএনপি জোট প্রার্থীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম, রিপাবলিকান পার্টির পররার্থীর এজেন্টদের দেখা যায়। এ ছাড়া অন্য প্রার্থীদের কেউ যোগাযোগ করেনি বলে জানান কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার।

কেন্দ্রটিতে ৩ হাজার ১৮৩ জন ভোটারের মধ্যে এক ঘণ্টায় ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান নেছারউদ্দিন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট