
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ যেন অনেকটাই শান্ত। নেই উত্তেজক স্লোগান, নেই শক্তির মহড়া বা চোখে পড়ার মতো জনসভার ঢল। অথচ এই নীরবতার আড়ালেই তৈরি হচ্ছে এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা। নির্বাচনী সমীকরণে সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা, যারা কথা কম বলেন কিন্তু ভোটের দিনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
উত্তেজনাপূর্ণ শোডাউন, বিশাল জনসভা কিংবা মুখোমুখি বাকযুদ্ধ এখানে খুব একটা চোখে পড়ে না।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে শুরুতে নাটকীয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটি আস্থা রেখেছে পরীক্ষিত ও বিতর্কহীন একজন প্রার্থীর ওপর। তিনবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। অন্যদিকে ১০ দলীয় ঐক্যজোটও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ও শান্ত ভাবমূর্তিকেই গুরুত্ব দিয়েছে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ বি এম সিরাজুল মামুন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পেশায় তিনি একজন ইংরেজি শিক্ষক এবং ছাত্রসমাজে একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই আসনের মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে ধানের শীষ প্রতীকের অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের সিরাজুল মামুনের মধ্যেই। তবে মাঠে অন্যান্য প্রার্থীর উপস্থিতিও গুরুত্বহীন নয়।
গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীকে তরিকুল সুজন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে মুফতি মাসুম বিল্লাহ এবং ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনও নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ভোটার চার লাখ ৮৫ হাজার ২৮৫ জন। পোস্টাল ব্যালটের জন্য জেলায় নিবন্ধিত ভোটার ২৪ হাজার ২৬০ জন এবং এ আসনে সেই সংখ্যা চার হাজার ৮২১।
প্রার্থীদের মতে, এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বড় শোডাউনের বদলে গণসংযোগকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বলয় বাড়ানোর চেয়ে সরাসরি ভোটারের দরজায় পৌঁছানোই যে এখানে চূড়ান্ত বিজয়ের চাবিকাঠি, সে ধারণাই শক্ত হচ্ছে প্রতিটি শিবিরে।
এমনকি পোস্টাল ব্যালটেও নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে প্রার্থীর ভাগ্য। বিএনপির এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু একটি মার্কা নয়, এটি জনগণের আস্থা এবং নির্ভরশীলতার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ তাদের এই পছন্দের মার্কায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তাই এবারের নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে ধানের শীষের মার্কায় বিপ্লব হবে। গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষ—নীরব ভোটাররা প্রত্যেকেই মুখিয়ে আছেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য।’
১০ দলীয় ঐক্যজোটের খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি মার্কার এ বি এম সিরাজুল মামুন বলেন, ‘তরুণ, ভদ্র ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ—সবাই পরিবর্তন চায়। আগের সেই পেশিশক্তির রাজনীতি এখন আর চলবে না।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তরিকুল সুজন বলেন, ‘ভোটাররা আগের চেয়ে এখন অনেক সচেতন। তাঁরা নির্বাচনী মাঠে হৈ-হুল্লোড় করার চেয়ে ভোটের বাক্সে নিজের মতামত দিতেই বেশি পছন্দ করেন।’
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘যাঁরা রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয় কিন্তু ভোটের মাঠে সরব, সেই ভোটাররাই তাঁদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাবেন।’
ফুটবল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাকসুদ হোসেন বলেন, ‘মানুষ প্রকাশ্যে কাউকে সমর্থন দিতে ভয় পান, কারণ বর্তমানে ভোটাররা যথেষ্ট সচেতন। প্রকাশ্যভাবে সমর্থন দিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি তাঁরা নিতে চান না। তবে ভোটের ব্যালট বাক্সে নিজেদের মতামত দিয়ে তাঁরা এবার বিপ্লব ঘটাবেন।’