
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সংসদীয় পাঁচটি আসনে মধ্যে চলছে প্রার্থীদের মধ্যে নানা দৌঁড়ঝাঁপ। দীর্ঘ সতেরো বছর নির্বাচনের বাহিরে থাকায় নির্বাচন নিয়ে ও চলছে প্রার্থীদের মধ্যে বাঁচা-মরার লড়াই।
এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোঁনারগাঁও আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে জোটের প্রার্থী জমিয়তে ওলামা মনির হোসাইন কাসেমী, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে সাবেক এমপি এড: আবুল কালামকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও একটিতে জোটের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপির বিদ্রোহী পার্থী থাকায় দল ও ভোট সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জটিলতা। চলছে পক্ষ-বিপক্ষ ও ভোট বিভক্তির সংঙ্কা। তবে নারায়ণগঞ্জ-১ ও ৫ আসনে বিএরপির কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকাসহ কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ওই দুটি আসনে সহজেই ধানেরে শীষ প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করবে বলে প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে নানা সমিকরণে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার), নারায়ণগঞ্জ (৩) সোনারগাঁ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনটি। এই তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বিএনপির মধ্যে চলছে জয়-পরাজয়ের আশংঙ্কা। এই তিনটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনটিতে বিএনপির জোট প্রার্থী রয়েছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ ও ৫ আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এমনকি ওই দুই আসনে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিও নেই। বোদ্ধা মহলের মতে ওই দুই আসন বিএনপির জন্য নির্ভার এবং ওই দুই প্রার্থী সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে জয়ের মালা পরবেন।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুকে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ আসনে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। নেই কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী । ফলে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ এর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তিনি এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। তার হাত দিয়ে এই আসনটিতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই এই আসনে আঙ্গুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিপাকে পরতে পারেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোঁনারগাও- সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মাজহারুল ইসলাম মান্নানকে। এই আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। চ্যালেঞ্জ হিসেবে গিয়াস উদ্দিন মাঠে নামলে দলীয় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভরাডুবি হতে পারে। কারণ এ আসনের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক হচ্ছে সিদ্ধিগঞ্জ। গিয়াসউদ্দিন এ আসনের বাসিন্দা। এরআগে সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মধ্যে অন্তভূক্ত থাকাকালিন গিয়াস উদ্দিন এখান থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তাই এই আসনটি নিয়ে বিপাকে পরতে পারেন আজহারুল ইসলাম মান্নান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে জোট শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর হাতে। কিন্তু এই আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর কারণে মোহাম্মদ শাহআলম ও গিয়াস উদ্দিন দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও চার আসনের বিরাট একটি ভোট ব্যাংক তাদের পক্ষে রয়েছেন। ভাষ্য মতে কার ভাগ্যে জুটি এই আসনটি তা বলা মুসকিল। বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকেও নির্বাচন করছেন।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতির কিং মেকার হিসেবে খ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি এবার রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচন করেছেন। তিনি এ আসনে বেশ জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। বোদ্ধাদের মতে বিএনপির জোট প্রার্থী ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী মাঠের লড়াইয়ে থাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলীর বিজয়ে পথ সুগম হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালামকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই আসনটিতে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল মামুন। তবে এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।