
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
সাংবাদিক আনিসুর রহমান আলমগীর এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধানে সাংবাদিক আনিসুর রহমান আলমগীরের নামে ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। ফলে আলমগীরের নামে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সন্তান ইমতিনান ওসমান ও লাবীবা জোহা অঙ্গনার নামে গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করেছিল দুদক। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং সময় বৃদ্ধির জন্য কোনো আবেদনও করেননি। এই অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম হানিফের তিন সন্তান ফাহিম আফসার আলম, ফারহান সাদিক আলম ও তানিশা আলমের নামে গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারাও সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং কোনো সময়ের আবেদনও জানাননি। এ কারণে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাদের তিনজনের বিরুদ্ধেও পৃথক তিনটি মামলা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।