
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে পথসভা ও গণসংযোগসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে প্রার্থীদের বলয়ে আনার জন্য চালানো হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উৎসাহব্যঞ্জক করে তুলেছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে মোট ৪০ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ২৮ জন। ফতুল্লা জোটের প্রার্থী মনির হোসেন মনিরকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, সদ্য বহিষ্কৃত হওয়া বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ আলম, এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও ইসলামি আন্দোলন, জামায়েত ইসলাম, গণঅধিকার, বাসদ, খেলাফত মজলিস, কমিউনিস্ট পার্টি ও রিপাবলিক পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট প্রার্থী মনির হোসেন মনিরের বিপরীতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চূড়ান্তভবে নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সদ্য যোগদান করা লিভারেল ডেমোক্রেটিক দল থেকে সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীও নির্বাচন করবেন বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা জোটের সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ফতুল্লার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এই আসনের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দলের জন্য কাজ করে আসছেন, নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছেন এবং মামলাহামলা ও হামলার ঝুঁকি মোকাবেলায় দলের পাশে থেকেছেন। নির্বাচিত হলে তিনি ফতুল্লা-৪ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন।
অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি পূর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে বয়সের কারণে তিনি তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়। তবুও রাজনৈতিক যোগ্যতার দিক থেকে তিনি শক্তিশালী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। এছাড়াও তার রয়েছে এ আসনে বিশাল ভোট ব্যাংক।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই আসনে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন নির্বাচিত হলে শুধুমাত্র উন্নয়ন নয়, সংগঠনকেও গতিশীল করে তুলতে পারবেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলীর অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তা তাকে সমানভাবে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রমাণিত করছে।
এখন দেখার বিষয়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের “কাণ্ডারি” হিসেবে কে নির্বাচিত হবেন। জোট প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রার্থীতা নির্বাচনী হাওয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।