
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হওয়া মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’ রাজকীয়ভাবে বিদায় জানানো হয়েছে। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহিষটিকে লাল গালিচায় সংবর্ধনা দিয়েছে ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের’ মালিকপক্ষ।
সোমবার (২৫ মে) বিকালে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে মহিষটিকে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’ ঢাকায় নিয়ে যান ক্রেতা ও তার লোকজন।

যদিও মহিষটি নিয়ে ইতিমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সংবাদ প্রকাশ হলে তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়। এর ফলে মহিষতো মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল দেখতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে নানান মিথ্যাচার করে ভুল তথ্য দেন রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের জিয়া উদ্দিন মৃধা।
জানা গেছে, সোমবার দুপুর থেকে রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের খামারিরা এলভিনো জাতের মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোসল করিয়ে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নেয়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে হরেক রঙয়ের কালার স্মোক উড়িয়ে লাল গালিচায় হাঁটিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় মহিষটি নিয়ে স্লোগান দিয়ে খামারের কর্মচারী ও রাখালেরা বলেন, ‘ডোনাল্ড সাহেবের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম।’ এ সময় উপস্থিত ফার্মের মালিকপক্ষ ও লোকজন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘আজ ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রেতার কাছে চলে যাচ্ছে। এতদিন লালন-পালন করার ফলে স্বাভাবিকভাবে একটু খারাপ লাগছে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি হবে- এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। এ ছাড়া মিডিয়ার কল্যাণে এই ফার্ম ভাইরাল হয়েছে, এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমাদের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম কখনো ভুলতে পারবে না।’
রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রেতা সামির বলেন, ‘আমার কেনা কোরবানির পশু এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে এটা কল্পনাও করিনি। বিশ্বজুড়ে এর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্য এলাকাবাসী সবাই অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের জন্য।’

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর কোরবানির ঈদের এক মাস পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে গোলাপি রঙের এলভিনো জাতের এই মহিষটি কেনা হয়। এরপর খামারে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করে। মহিষটি ইতিমধ্যে লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ক্রেতা সামিরের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এলভিনো জাতের প্রায় ৬৯০ কেজি ওজনের মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। এ কারণে খামার মালিকের ছোট ভাই শখ করে মহিষটির নাম রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মহিষটির বয়স প্রায় চার বছর। এই জাতের মহিষ সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়। উত্ত্যক্ত না করলে সহজে আক্রমণাত্মক আচরণ করে না। খুব শান্ত স্বভাবের।
এদিকে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিয়ে দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তা ভাইরাল হয়। এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে মহিষটিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষজন। পরে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। বিশ্বের বহুল পরিচিত রয়টার্স, দি টেলিগ্রাফ, দি মিরর, এএফপি, নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর, ম্যানিলা টাইমস, গালফ নিউজসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এলভিনো জাতের মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করতে দেখা গেছে।
তবে এর আগে, ১৬ মে ভাইরাল হওয়া মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল দেখতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে নানান আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় বিষয়টি জানতে চাইলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্রেতার কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে বলে মিথ্যাচার করে রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেলিভারি দেওয়া প্রসঙ্গে মালিক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১৪ মে রাতে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পকে দেখতে প্রতিদিন অনেক লোকজন খামারে ভিড় করতো, এতে ডোনাল্ড ওজন অনেকটা কমে গেছে। এ কারণে একটু তড়িঘড়ি করে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। ফরিদুজ্জামান স্মরণ নামে ঢাকার জিনজিরার এক ব্যবসায়ী তাকে কিনে নিয়েছেন দেড় মাস আগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও কিছুদিন পর ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। তবে নানা কারণে তড়িঘড়ি করে গতকাল রাতে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। ডেলিভারি দেওয়ার সময় ওজন হয়েছিল ৬৯০ কেজি, সে হিসেবে ৫৫০ টাকা কেজিতে দাম হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে খামারে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মহিষটির নামকরণের শুরুর দিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসবে। তবে এখন তো সেই সুযোগ নেই। কারণ ট্রাম্পকে ইতোমধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।’
এমন মিথ্যাচারের বিষয়ে জানতে রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়া উদ্দিনকে ফোন করা হলে নানা তালবাহানা করে ফোন রেখে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করেও আর সাড়া মেলেনি।