1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
হকার উচ্ছেদেও কমছে না শহরের যানজট? - যুগের নারায়ণগঞ্জ
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে সর্বত্র ডাকাত আতংক! বার প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা, সর্বত্র সমালোচনা—ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা ফতুল্লায় ঝুট নামানোক কেন্দ্র করে বিসিকে উত্তেজনা! পুলিশের হস্তক্ষেপে শান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেন ইসলামী যুব আন্দোলন সামাজিক অস্থিরতা রোধে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে-মাও.জব্বার ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ‘ত্বকী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত নারী আইনজীবিকে হেনস্থা করলেন টিপু! হকার উচ্ছেদেও কমছে না শহরের যানজট? শহরে যুবলীগের গোপন বৈঠকে পুলিশের হানা, আটক ৩ মাদকের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলি

হকার উচ্ছেদেও কমছে না শহরের যানজট?

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কগুলো থেকে হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও যানজট পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিদিনই চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ যানজটে আটকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

শহরের যানজটের জন্য শুধু হকার নয়, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা, অবৈধ স্ট্যান্ড, সড়কে পার্কিং এবং অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাষাঢ়া, কালিরবাজার, খানপুর, দুই নম্বর রেলগেট ও বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যত্রতত্র অটোরিকশা ও সিএনজি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। আর এর ফলেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও ড্রাইভার কার্ড চালুর ঘোষণা দিলেও এখনো তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা গেছে, আগামী ১ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া শহরের চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত অন্তত ১৩টি অবৈধ সিএনজি, অটো ও লেগুনা স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে এসব স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করলেও কিছু সময় পর আবারও সড়ক দখল করে বসে পড়েন চালকরা। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব অবৈধ স্ট্যান্ড চোখে পড়ে। এর মধ্যে চাষাঢ়া বাইতুল আমানের দুই পাশ, রাইফেলস ক্লাবের সামনে, লাজ ফার্মা, খাজা সুপার মার্কেট, সোনালী ব্যাংক, শহীদ মিনার এলাকা, মহিলা কলেজ, আলমাস পয়েন্ট, ফজর আলী ট্রেড সেন্টার ও মিডটাউন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অটো, লেগুনা ও সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে।

অন্যদিকে শহরের বেশিরভাগ মার্কেট, হাসপাতাল ও ব্যাংক বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে অবস্থিত। এসব মার্কেট, হাসপাতাল ও ব্যাংকের ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের ওপরই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছেন সেবাগ্রহীতা ও ক্রেতারা। এতে সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বড় বড় শপিংমলে মালামাল ওঠানামার সময় ট্রাক ও পণ্যবাহী যানও সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ছাড়া দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জ ও বিসিক শিল্প এলাকা শহরের ভেতরে হওয়ায় দিনভর ভারী যানবাহনের চাপ থাকে বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শহরের প্রধান প্রবেশপথ চাষাঢ়া এলাকায়। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পুরো শহরটি মূলত বঙ্গবন্ধু সড়ককেন্দ্রিক হওয়ায় বিকল্প সড়কের অভাবও যানজটের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে চাষাঢ়া ও দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় থাকা দুটি রেলক্রসিং দিনের বিভিন্ন সময়ে যান চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে শহরের ডিপ ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন অংশ খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় রয়েছে। ধীরগতির সংস্কারকাজের কারণেও সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

শহরের চাষাঢ়া এলাকার ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা টিআই করিম বলেন, ‘হকার না থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে মানুষ ফুটপাতে হাঁটাচলা করছে। এতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় যানজটের চাপ কম ছিল। তবে গত ১৫ দিন ধরে যানজট কিছুটা বেড়েছে। এর কারণ হলো শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে বন্দর-মদনপুর পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ। বড় গাড়িগুলো এখন চাষাঢ়া হয়ে যাচ্ছে। শিবুমার্কেট থেকে ফতুল্লা পোস্ট অফিস পর্যন্ত রাস্তাটিও বন্ধ। এ রাস্তাগুলো বন্ধ থাকায় প্রচুর গাড়ি এখন চাষাঢ়া দিয়ে যাতায়াত করছে। এ কারণেই আপাতত যানজট কিছুটা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। একটি বাস রাস্তায় নামানোর আগে বিআরটিএ হিসাব করে দেখে যে এ রাস্তায় ২০টি গাড়ি আছে, আরেকটি দেওয়া যাবে কি না। কিন্তু ইজিবাইকের কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকায় বেকারত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাস ও ট্রাক সিগন্যাল মানে। তবে দেখবেন, ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার পরও চারপাশ দিয়ে ইজিবাইক চলে যাচ্ছে। তারা ট্রাফিক আইন মানে না। যাত্রীদের সঙ্গে সারাদিন ভাড়া নিয়ে দুর্ব্যবহার তো আছেই। এদের শৃঙ্খলার মধ্যে না আনা পর্যন্ত যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু বলেন, ‘ঈদুল আজহার আগমুহূর্তে চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই যানজট বেশি। আমরা এ চাপ কমানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে রাজপথে নেমেছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অটোর প্লেট পরিবর্তনের কথা রয়েছে। এটি করে অবৈধ অটোগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বাস ও ট্রাকগুলোকে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। কারণ বাস-ট্রাকের যাতায়াত এবং অবৈধ বাস ও অটোর স্ট্যান্ডের কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা নাসিকের পক্ষ থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণে যা যা করার তাই করতে কাজ করছি। এরই মধ্যে কয়েকটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গেও কথা বলে কাজ করছি। অটোরিকশার লাইসেন্স নবায়ন শুরু হবে জুনে। ওয়ান আইডি ওয়ান বিহেকল সিস্টেম চালু করবো আমরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট