
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পুলের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে উচ্ছেদের নামে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতাদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এক মাছ ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী সন্তানদের মারধর করা হয়েছে বলেও উঠেছে অভিযোগ। রবিবার (১০ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মাসুদের স্ত্রী আসমা।
অভিযুক্তরা হলেন, নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি বাতেন পাড়া এলাকার শাহজাহান ভূঁইয়ার ছেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহিদুল ইসলাম (৫০), মিজমিজির মৃত তাহের আলীর ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম জুয়েল (৬৫), একই এলাকার মরুর ছেলে রাসেল (৪০), মৃত খালেক বেপারীর ছেলে শেখ জামাল (৫৫), মোস্তফার ছেলে উজ্জল (৪২), শাহজাহানের ছেলে অপু (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন।
অভিযোগে আসমা উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, উশৃঙ্খল ও খারাপ প্রকৃতির লোক। আমার স্বামী মাসুদ ওরফে ভাঙালি সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায়
ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘ দিন ধরে তার স্বামী শান্তিপূর্ণভাবে মাছের ব্যবসা করে আসছেন। অভিযুক্ত আমাদের কাছে অযৌক্তিক অযুহাতে চাঁদা দাবি করে আসছে। তারা চাঁদার দাবিতে নানা পন্থায় হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় তারা দলবল নিয়ে রোববার দুপুরে আমার স্বামীর দোকান তুলে নিতে বলে।
আসমা সাংবাদিকদের জানান, আমরা বৈধভাবে এখানে ব্যবসা করে আসছি। যদি সিটি করপোরেশন সকল ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে তবে আমরাও চলে যাবো বললেও তারা কর্নপাত করেনি। তারা আমার ও আমার স্বামীর কাছ থেকে দাবিকৃত চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে। এক পর্যায়ে যুবদল নেতা শদিুল আমার স্বামীকে চড় থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। এসময় শহিদুলের ইন্ধনে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তৎক্ষনাত আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আমার স্বামীকে এলোপাথারী মারধর করে গুরুতর জখম করেন।
আমি ও আমার কন্যা সাদিয়া (১৭), জামিলা (১৩) ও জান্নাত (৪) তাদের বাধা দিলে তারা আমাকে ও আমার কন্যা সন্তানকে মারধর শ্লীলতাহানীর চেষ্টায় শরীরের স্পর্শকাতর স্পর্শ করে শ্লীলতাহানি করেন। এসময় সন্ত্রাসীরা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মাছ লুটপাট ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। পাশাপাশি আমাদের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে আমি ও আমার পরিবার অভিযুক্তদের ভয়ে আতঙ্কিত।
এদিকে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমরা সরকারি জায়গায় ব্যবসা করি। সরকারিভাবে উচ্ছেদ করা হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। বিএনপির নেতারা উচ্ছেদ করার কে ? ১ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সরকারি জায়গায় ব্যবসা করা হচ্ছে। কিন্তু এদেরকে উচ্ছেদ না করে শুধু আমাদের উচ্ছেদ করা যুক্তিসংগত নয়। চাঁদা দিলেই সব ঠিক হয়ে যায়।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সড়ক দখল করে ফুটপাত দোকান বসার ফলে জন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। ফলে আমরা এসব ফুটপাত দোকান উচ্ছেদ করি। এসময় মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ ও তার স্ত্রী বাধা দিলে আমার অজান্তে কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠে। আমি পরিস্থিতি শান্ত করি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের আস্থাভাজন পরিচয়প কথিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ পুলের পাশে স্থাপিত দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। দেশের পটপরিবর্তনের পর সালাউদ্দিন এককভাবে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রন নেন। একজন ব্যবসায়ীর করা মামলায় কিছুদিন আগে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে সালাউদ্দিন জেল হাজতে রয়েছে। সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলের ফুটপাত দোকানের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রন নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি নেতা রওশন চেয়ারম্যান। তিনি কৌশলে বিএনপি নেতা এম এ হালিম জুয়েল ও যুবদল নেতা শহিদুলকে ম্যানেজ করে জন দুর্ভোগের অজুহাতে এসব দোকান পাট উচ্ছেদ করে নিজের ইচ্ছামত আবার বসানোর পরিকল্পনা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, এম এ হালিম জুয়েল, রওশন আলি চেয়ারম্যান ও শহিদুল ইসলাম একজোট হয়ে এলাকার বিভিন্ন গার্মেণ্টর ঝুট ব্যবসা ও মিলকারখানা নিয়ন্ত্রন করে আসছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করা নিয়ে জামেলা হয়েছে। আসমা নামে একজন মহিলা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একজন এস আইকে তদন্তের দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।