1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: এক যুগ ধরে বিচারের অপেক্ষায় স্বজনরা - যুগের নারায়ণগঞ্জ
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বায়ুদূষণ:ফতুল্লায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চাঁদাবাজি:সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার আইভীকে পেন্ডিং মামালা না দেওয়ার নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ সিদ্ধিরগঞ্জে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এজেন্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে পূর্ণবাসনের দাবিতে শহরে হকারদের বিক্ষোভ, পুলিশি বাধায় পন্ড যাত্রীবাহী লঞ্চে অসুস্থ শিশুকে জরুরী চিকিৎসা সেবা দিল কোস্ট গার্ড নেতৃত্ব তৈরির কারিগরই হচ্ছে ছাত্রশিবির-মাও.জব্বার নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন: সাধারন সম্পাদক পদ থেকে মাহফুজকে অব্যাহতি দায়িত্ব পেলেন আনোয়ার বনন্দরে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: এক যুগ ধরে বিচারের অপেক্ষায় স্বজনরা

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায় কার্যকর হয়নি এক যুগেও। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পেনেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত জনকে অপহরণ করে খুন করা হয়। এর তিন দিন পর একে একে তাদের মরদেহ বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে।

এই খুনের ঘটনায় মামলায় নিম্ন আদালতে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ আরও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে অন্যান্য আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আটকে আছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

জানা গেছে, সাত খুনের মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেন। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ২০১৮ সালে ২২ আগস্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে অন্যান্য আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন উচ্চ আদালত। গত সাড়ে ৬ বছর ধরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টের দেওয়া রায় সন্তোষজনক হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তবে আপিল বিভাগেও এ রায় বহাল থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। সেই সঙ্গে সাজার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি স্বজনদের।

বিচার দাবি করে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘১২ বছর ধরে বিচারের অপেক্ষায় আছি। আসামিপক্ষের লোকজন এখনও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। উপার্জনক্ষম সাত জন মানুষকে হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন সরকারের কাছে শুধু ন্যায়বিচার দাবি করছি।’

শঙ্কা প্রকাশ করে নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের বলেন, ‘বিচার পাবো কিনা তা আদৌ জানি না। আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কেন মামলাটি ঝুলে আছে, তা বুঝতে পারছি না।’

নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নুপুর বেগম বলেন, ‘১২ বছর ধরে বিচারের আশায় বুক বেঁধে আছি। কিন্তু বিচারের তো পাচ্ছি না। বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি ঝুলে আছে। অথচ নিম্ন আদালত খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খুনের সঙ্গে বিপথগামী র‌্যাব কর্মকর্তাসহ প্রভাশালী কাউন্সিলর জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে না হয় ওই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে সেই চেষ্টা-তদবির চালিয়ে আসছে। আমরা চাই মামলার রায় বহাল রেখে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। পাশাপাশি মামলার রায় কার্যকর করা হোক।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) হেকমত আলী বলেন, ‘সাত খুন মামলা সারা দেশে বহুল আলোচিত। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে। প্রত্যাশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমসহ সাত জন অপহৃত হন। অপহরণের তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল নজরুল ইসলামসহ ৬ জন ও ১ মে সিরাজুল ইসলাম লিটনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দরের শান্তির চর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় আলাদা দুটি মামলা করেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট