1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

সরকার বদলালেও রাষ্ট্রের গণবিরোধী চরিত্র বদলায় না কেন প্রশ্ন রাব্বির?

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
১৩ বছর ধরে আটকে থাকা মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাসহ, নারায়ণগঞ্জের নাট্যকর্মী চঞ্চল, ব্যবসায়ী আশিক, ভুলু, মুনিয়া, মিতুসহ সারাদেশের সকল হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার দাবি করেছেন ত্বকীর পিতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।

তিনি বলেন, “১৩ বছরে যেখানে অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ে না, সেখানে বিচার ব্যাবস্থা কতটা জনবান্ধব বা স্বাধীন তা সহজেই বুঝতে পারি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শেখ হাসিনার বিচার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা এভাবে আর কত দিন চলবে। সরকার বদলালেও রাষ্ট্রের গণবিরোধী চরিত্র বদলায় না কেন?”

রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৩ বছর পূর্তিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ আয়োজন করে।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, “বর্তমান সরকারের কাছে আমরা রাষ্ট্রটাকে গণবিরোধী চরিত্রের খোলস থেকে বের করে আনার দাবি জানাচ্ছি। একাত্তর বা চব্বিশে আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি জনবান্ধব, গণতান্ত্রিক, মানবিক, সাম্য ও সুশাসনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য তো একটি সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। শতাব্দীর পর শতাব্দী অপেক্ষা করতে হবে কেন?”

তিনি বলেন, “আমরা ত্বকী হত্যার বিচার চাই। সাগর-রুনী, তনু, মিতু, মুনিয়া হত্যার বিচার চাই। নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, ভুলু, মিঠু হত্যার বিচার চাই। গুম হয়ে যাওয়া সকলের বিচার চাই।”

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী ও শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, উপদেষ্টা জিয়াউর ইসলাম কাজল, উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আওলাদ হোসেন, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, সাবে সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা সংগঠক সেলিম মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলন জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা, সুজন জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট