
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের গণসংযোগে হামলার চেষ্টার অভিযোগে আটক দুই যুবকসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে মামলাটি রেকর্ডের পর আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: গাইবান্ধা সদরের সিদ্দিকের ছেলে আল আমিন ওরফে আঁকাবাকা আলামিন (২৪) ও ফতুল্লার চর কাশিপুর এলাকার প্রয়াত আইয়ূব আলীর ছেলে মারুফ হাসান (২২)।
মামলাটি দায়ের করেছেন এনসিপি’র ছাত্র উইং ছাত্রশক্তি মহানগর শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. মারুফ। তিনি ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
মামলায় তিনি লিখেছেন, গণভোটের জন্য এনসিপির গণসংযোগকালে আসামিরা তাদের উপর ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও কাঠের ডাসা নিয়ে পথরোথ করে হামলা করে এবং মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার মারুফ চাপাতির ধারালো দিকের উল্টোপাশ দিয়ে আঘাতও করেন এবং আলামিন লোহার রড ও কাঠের ডাসা দিয়ে মারধর করতে থাকেন। এবং গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
“আমার দু’জন সহকর্মী এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়”, বলেও উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে।
এদিকে, গ্রেপ্তার আলামিনের বড়বোন শাহানাজের দাবি, তার ভাই মানসিকভাবে স্থিতিশীল নয়। কাউকে হামলার করার উদ্দেশ্যে সেখানে আলামিন যায়নি।
“আমার ভাই একটু পাগলা কিসিমের। এত বড় নেতার সঙ্গে ওর কোনো ঝগড়া হইছে এইটা তো আমরা ভাবতেই পারি নাই। ওর এমনিতেই জ্ঞানবুদ্ধি কম, প্রতিবন্ধীদের মতো। ও গন্ডগোলের মধ্যে পইড়া গেছে। ওরে পুলিশে ধরার আগ পর্যন্ত এইসব নিয়া আমরা কিছুই জানতাম না।”
গাইবান্ধার স্থানীয় বাসিন্দা হলেও কাশিপুরের পশ্চিম দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকেন বলে জানান আলামিনের বোন শাহানাজ। তিনি বলেন, “ও (আলামিন) পাগলা কিসিমের বলে ও রাত-বিরাতে বাইরে ঘোরাঘুরি করলেও আমরা তাই কিছু বলতাম না। আমার বাবা এলাকায় একটা কনফেকশনারির দোকান চালান। উনিও এইসব জানতেন না।”
এর আগে মাদক গ্রহণের অভিযোগে একবার আলামিন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উল্লেখ করে শাহানাজ বলেন, “ওর সাথের পোলাপান হয়তো কারও সঙ্গে ঝামেলা করেছিল, এবং সেই ঝামেলায় ও পড়ে গেছে।”
এদিকে, পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, “এনসিপির নেতারা তাদের উপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদও করবে পুলিশ। কিন্তু বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তখন সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, “এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে আদালত বন্ধ থাকায় আসামিদের বিষয়ে আদালতে কোনো শুনানি হয়নি। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”