
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ১৫ জন প্রার্থীর হলনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে এই আসনে একটি স্পষ্ট বৈচিত্র্য ও অসমতা বিদ্যমান। প্রার্থীদের মধ্যে যেমন উচ্চশিক্ষিত আইনবিদ ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রয়েছেন, তেমনি আছেন কেবল মাধ্যমিক বা তার নিচে পড়াশোনা করা এবং স্ব-শিক্ষিত প্রার্থীও।
শিক্ষাগত দিক থেকে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন, যিনি আইন বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি এলএলএম অর্জন করেছেন। তার সাথেই আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, যিনি এমএসএস (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রিধারী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইছমাঈল হোসেন কাউছার মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষায় তাকমীল বা মাস্টার্স সমমান ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা ধর্মীয় শিক্ষায় উচ্চস্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন স্নাতক পাস। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসাইন মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষায় ফাজিল পাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম বি-কম পাস ।
মাঝারি পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার তালিকায় রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভূইয়া, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী এবং খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহম্মেদ—এরা সবাই উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে মনোনীত সেলিম মাহমুদ এসএসসি পাস এবং একই দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান পড়াশোনা করেছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। এই স্তরের প্রার্থীরা সংখ্যাগতভাবে সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীও রয়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. সেলিম আহমেদ এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) মো. ছালাউদ্দিন খোকা নিজেদের স্ব-শিক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা মনিরের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য হলনামায় উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার চিত্র থেকে বোঝা যায়, এ আসনের নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষাগত বৈচিত্র্যও ভোটারদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আইন, সামাজিক বিজ্ঞান, সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত প্রার্থীদের পাশাপাশি স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।