
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
আওয়ামী দোসর হাবিবুর রহমান এখন রিকশা–ভ্যান–অটোচালক দল নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি! কিন্তু এই পদ ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘গডফাদার’ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বলয়েই ছিলেন এই হাবু।
বিশ্বস্ত সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলে শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু ও নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র আইভির সঙ্গে হাবুর একান্ত সাক্ষাতের ছবি রয়েছে।
এসব ছবি তার দীর্ঘদিনের আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও তার গভীর সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর। ওই আওয়ামী ঘনিষ্ঠতাকে পুঁজি করে নিজের এলাকা এনায়েতনগরে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, ভূমিদস্যুতা এবং বিভিন্ন অপকর্মের ‘সেল্টারদাতা’ হিসেবে তিনি কাজ করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসব অপকর্ম বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের জেলা সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়ে সেই পদ ব্যবহার করেই আগের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ধরে রেখেছেন হাবু।
এতে করে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়,
“আমরা বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি, ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে কখনো আপস করিনি। অথচ যারা আওয়ামী দোসর ছিল, সুবিধা নিয়েছে, তারাই এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করে আবার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।”
তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে মাঠপর্যায়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমি ইউনাইটেড ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। আমার ক্লাবে অনেক মানুষ এসেছে, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ছবি থাকতে পারে। ছবি থাকলেই কেউ আওয়ামী লোক হয়ে যায় না।
ফতুল্লায় যখন সবাই প্রোগ্রাম করতে ভয় পেত, তখন এনায়েতনগরে একমাত্র আমিই বড় বড় প্রোগ্রাম করেছি। আমার নিজের ইটভাটা আওয়ামী দোসররা দখল করে নিয়েছিল, আমি এলাকাতেই থাকতে পারিনি। শামীম ওসমানের লোক তানভীর আহমেদ টিটুকে আমি চিনি না।”
তবে মাঠপর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—যদি হাবু সত্যিই আওয়ামী বিরোধী হন, তবে আওয়ামী শীর্ষ মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার এত ছবি ও অভিযোগ আসছে কোথা থেকে?
এই বিতর্ক এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।