1. admin@jugernarayanganj.com : jugernaraya nganj nganj : jugernaraya nganj nganj
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

“হঠাৎ আগমন, হঠাৎ প্রস্থান : মডেল মাসুদের রাজনৈতিক প্রহসন”

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত, বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ—তিনি মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান ওরফে ‘মডেল মাসুদ’। হঠাৎ করেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আবির্ভূত হন, বড় পরিসরে শক্তি প্রদর্শন করেন, আবার ঠিক তেমনই হঠাৎ করেই নির্বাচনী মাঠ থেকে কার্যত নিভে যান। এই অস্থির উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সৃষ্টি করেছে বিভ্রান্তি, সন্দেহ এবং গভীর অনাস্থা।

আওয়ামী লীগ আমলের ঘনিষ্ঠতা ও সুবিধাভোগীর তকমা

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়জুড়ে মাসুদুজ্জামান ছিলেন নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সেলিম ওসমান এবং শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক ও সামাজিক ঘনিষ্ঠতার বহু ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও বিদ্যমান। ওই সময়েই তিনি ‘ওসমানীয় দালাল’ ও ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগী হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের ছায়ায় থেকেই তিনি ব্যবসায়িক প্রভাব বিস্তার ও নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।

৫ আগস্টের পর প্রথম রং বদল

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই মাসুদুজ্জামানের রাজনৈতিক রং বদল দৃশ্যমান হয়। দ্রুত তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি পদ দখল করেন। এখানেই শেষ নয়— বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ হাতেমকে সঙ্গে নিয়ে বিকেএমইএ ও চেম্বার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজির নাটক, রহস্যজনক সাংবাদিক সম্মেলন ও চাঁদা ফেরতের ঘটনাগুলো তার নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

বিএনপিতে ‘হঠাৎ প্রবেশ’ ও মনোনয়ন নাটক

এরপর আসে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়— বিএনপিতে যোগদান ও সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা। নিজেকে দীর্ঘদিনের ‘বিএনপি সমর্থক’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও অতীতের কোনো বিএনপি নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন তিনি।

উল্টো বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। বিএনপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মাসুদ বিএনপির কেউ নন, তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন।”

তবুও অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন, যা দলটির ভেতর ব্যাপক ক্ষোভ ও বিভাজনের সৃষ্টি করে।

মনোনয়ন প্রত্যাহার ও বিভ্রান্তিকর বার্তা

মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই বিশাল মিছিল-মিটিং, ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ সদর। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এই ঘোষণায় শুধু স্থানীয় রাজনীতিই নয়, জাতীয় পর্যায়েও সৃষ্টি হয় তোলপাড়। বিএনপি পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে, এমনকি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে নারায়ণগঞ্জে এসে পরিস্থিতি সামলাতে হয়।

নাটক এখানেই শেষ হয়নি। কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনি আবার ঘোষণা দেন— নির্বাচন করবেন। কিন্তু বাস্তবে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও তিনি আর মনোনয়ন দাখিল করেননি।

নিশ্চুপ সমর্থক, প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়— এতদিন যাদের মিছিল-মিটিংয়ে দেখা গেছে, সেই ঘনিষ্ঠজন ও সমর্থকেরা এখন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। নির্বাচনী মাঠে তার কোনো সক্রিয় উপস্থিতি নেই। প্রশ্ন উঠছে— তাহলে এত আয়োজন, এত ঘোষণা, এত নাটক ছিল কিসের জন্য ?

বিশ্লেষকদের মন্তব্য : রাজনীতি না সুযোগসন্ধান ?

প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদুজ্জামানের এই আচরণ আদর্শিক রাজনীতির নয়, বরং ক্ষমতার পালাবদলে নিজের ব্যবসা ও প্রভাব রক্ষার কৌশলমাত্র।

একজন বিশ্লেষক বলেন, “যিনি এক বছরে একাধিকবার অবস্থান বদলান, একেক সময় একেক ঘোষণা দেন, তার লক্ষ্য নির্বাচন নয়— লক্ষ্য টিকে থাকা।”

উপসংহার

মডেল মাসুদের রাজনীতি যেন এক ‘চমকনির্ভর অধ্যায়’— হঠাৎ আগমন, উচ্চস্বরে ঘোষণা, আবার নীরব প্রস্থান। এই অধ্যায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে দিয়েছে বিভ্রান্তি, রাজনীতিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দলীয় রাজনীতির ভেতরের দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করেছে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
মাসুদুজ্জামান কি রাজনীতিতে এসেছিলেন জনগণের জন্য, নাকি রাজনীতিকে ব্যবহার করেছেন নিজের প্রয়োজনে ?

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়— বরং পুরো রাজনৈতিক ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট