1. admin@jugernarayanganj.com : jugernaraya nganj nganj : jugernaraya nganj nganj
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

মামলা বানিজ্য ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে বিতর্কিত সাখাওয়াত-টিপু!

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয় হুমকি ধামকি দিয়ে চাঁদাবাজি ও মামলা বানিজ্যের মত ঘটনা। এসব ঘটনার দায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর। কারন এসব ঘটনায় তাদের দুজনের সরাসরি মদদ থাকার অভিযোগ ওঠেছিল একাধিকবার। চাঁদাবাজির ঘটনা টিপুকে নিজ দলের নেতাকর্মীরা গণপিটুনি দিয়েছিলো বন্দর নবীগঞ্জ এলাকায়। নগরীর হাট ঘাট মাঠ ফুটপাত থেকে সরাসরি চাঁদাবাজিতে জড়িত টিপু। একই সঙ্গে আওয়ামীলীগ ও বিরোধী দলের আইনজীবীদের হত্যা মামলায় আসামী করে কৌশলে আইন পেশা থেকে দূরে রেখে একচেটিয়া আইন পেশা চালিয়ে আসছেন সাখাওয়াত ও টিপু সহ তাদের সিন্ডিকেট।

স্থানীয়রা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী ও কোর্টপাড়ায় মামলা বানিজ্যের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে বিএনপির রাজনীতিতে ডুবতে যাচ্ছে সাখাওয়াত ও টিপু। তাদের অপকর্মের ফিরিস্তি বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে পৌছে গেছে অনেক আগেই। মামলা বানিজ্য ও চাঁদাবাজিতে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই দুই নেতা ও তাদের অনুগামীরা।

সরকার পতনের পর নগরীর ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রথমেই টিপু তার ভাই আবু আল বেলাল খান বিল্লালকে মহানগর হকার্স শ্রমিকদলের সভাপতি বানান। বিএনপিতে হকার্স শ্রমিকদল বলতে কোনো সংগঠন না থাকলেও চাঁদাবাজির সুবিধার্থে কথিত এই সংগঠনের সভাপতি বনে যান টিপুর ভাই বেলাল খান। তার মাধ্যমে প্রতিদিন নগরীর ৫টি সড়কে প্রায় ৯০ লাখ টাকা নগদ চাঁদা আদায় করে আসছেন। নগরীর রাস্তায় ফুটপাত বসিয়ে ভিটি প্রতি ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা করে এককালীন এবং দৈনিক দেড় থেকে দুইশো টাকা চাঁদা আদায় করছেন বেলাল খান। এ ছাড়াও সাখাওয়াতের বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত কথিত বিশেষ পেশার পরিচয়ধারী এক সন্ত্রাসী নগরীর কালিরবাজার ও বিআইডব্লিউটিএ’র জায়গায় জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করে দৈনিক লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে বলেও জানাগেছে।

অন্যদিকে ৫ আগস্টের পরবর্তীতে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল হক হিরন স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেছিলেন, বন্দরে শাহিন মুরগী ধইরা সাখাওয়াতের কাছে নেয়, সেই মুরগী সাখাওয়াত জবাই করে। গেল বছর বন্দরে নূর হোসেনের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল সাখাওয়াত টিপুর ঘনিষ্ঠ কর্মী মহানগর যুবদলের সদস্য সম্রাট হাসান সুজন। ওই ঘটনার রেস ধরে টিপুকে গণপিটুনি দেয় নূর হোসেন সহ তার অনুগামীরা।

এ ছাড়াও গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে জহিদ্দার বিলে সেচ প্রকল্পের ঠিকাদার আমানউল্লাহর কাছে চাঁদাবাজি করতে গেলে সাখাওয়াত টিপুর ঘনিষ্ঠজন বিএনপি নেতা তাঁরা মিয়া ও জাহিদ খন্দকারকে পিটিয়ে পানিতে চুবিয়েছে এলাকাবাসী। মোটা শাহিন, তারা মিয়া, জাহিদ খন্দকার ও সুজনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে বন্দরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষজন। মিথ্যা হয়রানিমুলক মামলায় আসামী করে বিএনপির এই ৪ নেতা শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সাখাওয়াত ও টিপুকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়ে বন্দরের মানুষজনের কাছে চাঁদাবাজি করছে তারা। সেই চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা পড়ছে সাখাওয়াত ও টিপুর পকেটে।

বন্দরের স্থানীয়দের অভিযোগ- বন্দর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে সাখাওয়াতের একমাত্র ভরসা এখন শাহিন আহমেদ ওরফে মোটা শাহিন। এক সময় জেলা জাতীয়পার্টির সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের কর্মী হিসেবে কাজ করেছে মোটা শাহিন। বিএনপির রাজনীতিতে শাহিন সক্রিয় হওয়ার পরেও বন্দরে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও গেল বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও জাতীয়পার্টির মাকসুদ হোসেনের পক্ষে কাজ করেছে শাহিন। সেই শাহিনকে দিয়ে বন্দর উপজেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন সাখাওয়াত। শাহিনের মাধ্যমে সাখাওয়াতের পকেট হচ্ছে ভারি।

স্থানীয়দের সূত্রে আরো জানাগেছে, বন্দর উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হন মাকসুদ হোসেন ও বিএনপির নেতা আতাউর রহমান মুকুল। নির্বাচনে প্রকাশ্যে সাখাওয়াত ও টিপুর অনুগামীরা মাকসুদের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনের পূর্বে শাহিনের মাধ্যমে সাখাওয়াতের দরবারে আসে মাকসুদ। গত ৫ আগস্টের পরেও মাকসুদকে সাখাওয়াতের দরবারে নিয়ে আসে শাহিন। নির্বাচনের পূর্বে নারী গঠিত মামলায় মাকসুদের পক্ষে আইনি সহায়তাও দেন সাখাওয়াত। ৫ আগস্টের পর ওই নারীর সঙ্গে আপোসের ব্যবস্থাও করেছেন সাখাওয়াত নিজে।

যদিও এসব কারনে সম্প্রতি গণমাধ্যমে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ বলেছেন, ‘শাহিন মুরগী ধরে সাখাওয়াতের কাছে নেয়, সাখাওয়াত সেই মুরগী জবাই করে।’ এর আগে ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফারুক হোসেনকেও সাখাওয়াতের দরবারে নিয়ে আসেন শাহিন। ফারুককে নিয়ে এখন বিএনপির মিটিং মিছিলে আসছে শাহিন। জাতীয়পার্টির লোকজনকে ধরে ধরে বিএনপি বানাচ্ছেন মোটা শাহিন। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির কমিটিতে শাহিনকে সদস্য পদে রাখেন সাখাওয়াত। এ নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন সাখাওয়াত। গত ২০২৩ সালের ১৩ জুন উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে শাহিনকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী করেন সাখাওয়াত। কিন্তু শাহিন পরাজিত হোন। এর আগে শাহিনকে মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বানান তিনি।

সম্প্রতি শাহিন আহমেদকে নিয়ে ৪৩জন নেতাকর্মীর স্বাক্ষর নিয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটনের বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবার লিখিত অভিযোগ দেয়ান সাখাওয়াত। তারপর থেকে হিরন ও লিটন সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে থাকেন। এরপর সম্প্রতি জাতীয়পার্টিঘেষা শাহিন ও আওয়ামীঘেষা মোহসীন মিয়া হিরন ও লিটনের বহিষ্কার দাবিতে এবং সাখাওয়াতের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এর মাস খানিক পূর্বে শাহিন গ্রুপ হিরন ও লিটনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলও করেছিলেন। মুলত বন্দর উপজেলায় গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সেক্টর শাহিনকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন সাখাওয়াত। কিন্তু হিরন ও লিটন নিজেরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন অধিকাংশ সেক্টর। এ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। যদিও হিরন ও লিটনের পেছনে সমর্থন জুগিয়েছেন টিপু।

অন্যদিকে গত ১ ডিসেম্বর টিপু অনুগামী ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকার ও মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাঁরা মিয়া জহিদ্দার বিলে মাকসুদের বোন পরিচয়দানকারী লাভলী মেম্বার ও তার স্বামী আমান উল্লাহর সেচ প্রকল্পের দখলে যায়। কিন্তু আগেই সাখাওয়াতকে ম্যানেজ করে লাভলী মেম্বার ও আমান উল্লাহ প্রকল্পের কাজ চালিয়ে গেলেও দখল করার চেষ্টা করতে থাকে জাহিদ ও তাঁরা মিয়া।

১ ডিসেম্বর চাঁদা দাবিতে দখলে গেলে মাকসুদের লোকজন জাহিদ খন্দকার ও তাঁরা মিয়াকে পিটিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে চুবিয়েছেন। পেছনে সমর্থন যুগিয়েছে সাখাওয়াত অনুগামী শাহিন, মোহসীন ও তাওলাদ হোসেনরা। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বন্দরে নূর হোসেনের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে টিপুর ঘনিষ্ঠজন যুবদল নেতা সম্রাট হাসান সুজন। ওইদিন বিকেলে টিপু বন্দরে গেলে টিপুকে গণপিটুনি দেয় নূর হোসেনসহ তার লোকজন। টিপু ও সুজন সহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নূর হোসেনের ভাই শাহাদাত হোসেন কোর্টে চাঁদাবাজির মামলাও দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় টিপুর ঘনিষ্ঠজন মহানগর বিএনপির সদস্য রফিক আহমেদ, সাখাওয়াতের ঘনিষ্ঠ আনোয়ার প্রধান, আবু রায়হান, শাহিন খান ওরফে বরিশাইল্লাহ শাহিন, বারী ভুঁইয়ার ছেলে আশরাফুল ভুঁইয়া গত ৫ আগস্টের পরবর্তীতে মামলা বানিজ্যের সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আসামী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে আসামীদের খালাস পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাদীপক্ষের হলফনামা কোর্টে নামে বেনামে দাখিল করে কোটি কোটি টাকা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন। কোর্টপাড়ায় এসব অপকর্মের জন্য সাখাওয়াত ও টিপুকে দায়ী করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। যে কারনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ নগরীর ফুটপাত, জেনারেটর, ইন্টারনেট, সিএনজি অটো প্রাইভেটকার স্টান্ড, ট্রাক স্টান্ড সহ বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজিতে সাখাওয়াত টিপুর বিরুদ্ধে দিকে আঙ্গুল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট