
মোঃ আল আমিন রকি:
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার আলী আজগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, ঠান্ডাজনিত সমস্যা, অর্থোপেডিক ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে আজ তাকে আলী আজগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
জানা যায়, সাইফুল্লাহ বাদল একসময় ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। সে সময় তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে তিনি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হন।
রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে জোরপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি ফতুল্লা ও কাশিপুর এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। নিজেকে মুকুটহীন সম্রাট ভাবতেন এ সাইফ বাদল।
এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন তার প্রভাব ও কর্তৃত্বের বাইরে কাশিপুরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতো না। স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘাত ও উত্তেজনার ঘটনাও আলোচনায় চলে আসে। এসব কারণে সময়ের ব্যবধানে তিনি কাশিপুরবাসীর একটি অংশের কাছে সমালোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকার পতনের পর তিনি স্ব-পরিবারে ঢাকায় আশ্রয় নেন বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
বাদ এশা কাশিপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ঈদগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।