
বন্দর প্রতিনিধিঃ নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর সন্ত্রাসীদের জনপথ খ্যাত মদনপুর নিয়ন্ত্রন করছে কে। এক সময়ের আলোচিত তারকা সন্ত্রাসীদের কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রনে আনে প্রশাসন। প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার কারনে দীর্ঘদিনের আতংকের নগরীকে সন্ত্রাসমুক্ত করলেও উদ্ধার করতে পারেনি অবৈধ অস্ত্রগুলো। আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সাড়াশি অভিযানের দাবী এলাকাবাসীর।
এক সময় সন্ত্রাস ও খুনের ভয়ানক নগরী ছিলো নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দরের মদনপুর তথা উত্তরাঞ্চল। এখানে নুনের চেয়ে খুন ছিলো সস্তা। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী, কথায় কথায় খুন-খারাবি, চাঁদাবাজী, ডাকাতি, লুটতরাজে লিপ্ত হতো এখানকার সন্ত্রাসীরা। শুধু মদনপুর নয় রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে কাজ করতো এরা।
তৎকালীন সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান কামু ও সুরত আলী ওরফে সুরুজ আলী বাহিনী উত্তরাঞ্চলে রাজত্ব করতো। এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে ছিলো তুমুল বিরোধ। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের প্রায় দেড় ডজন সন্ত্রাসী ও পরিবারের সদস্যরা নংসশ খুনের শিকার হয়েছে। মদনপুরের শীর্স সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত সুরত আলী বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড কাবিল কে বন্দর থানা পুলিশ আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী কামুর বোন রেহেনা হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেইসাথে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধারের দাবি উঠেছিল
জানা গেছে, ২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর বন্দর থানার মদনপুর ছোট সাহেব বাড়ী এলাকায় সুরত আলী বাহিনীর ব্রাশ ফায়ারে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নুরুজ্জামান (৩২) ও বাবুল (৪৫) দুভাই। এই জোড়া হত্যাকান্ড কামু-সুরতআলী বাহিনীকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে আসে। দুপক্ষই বিপুল অবৈধ অস্ত্রের মজুদ করে একদিকে হত্যার প্রতিশোধ অপরদিকে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
জোড়া খুনের পর সুরত আলী বাহিনী এলাকা ছাড়লে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কামু বাহিনী। এরইমধ্যে ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে জামায়াতের এমপি তাহেরকে তার মিলের ভেতরে ঢুকে প্রাকাশ্যে গুলি করে সন্ত্রাসী কামু (নিহত)। এতে তাহেরের বডিগার্ড পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর জামায়াতের এমপি তাহের কামু বাহিনীকে নিশ্চিহৃ করতে সুরত আলীকে এলাকায় ফিরিয়ে আনে। তখন ৪টি হত্যাসহ ৪৪টি মামলার ওয়ারেন্ট থাকার পরও সুরত আলী এলাকায় ঢুকে নিয়ন্ত্রণ গ্রহন করে। ২০০৪ সালের অক্টোবরে কামুদের বাড়ীতে ঢুকে তার বোন নিলুফা (৫০)কে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে সুরত আলী বাহিনী। কিছুদিন পর আরেক বোন রেহেনা (৪২) কে কেওঢালা থেকে অপহরন করে নয়াপুর এলাকায় নিয়ে প্রথমে গুলি করে আহত করার পরম মাইক্রোবাসের চাকায় পিষ্ট করে নির্মমভাবে হত্যা করে। কথিত আছে আশির দশকে কামুর বাবাকে ট্রাকের চাপায় এবং মা-কে বাড়ীতে ডুকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলো সুরত আলী বাহিনী।
২০০২ সালে কামুর ভাইয়েরা মিলে কুপিয়ে হত্যা করে সুরত আলীর বড়ভাই বাতেন ভেন্ডারকে। এভাবে পাল্টাপাল্টি খুন আর সন্ত্রাসের কবলে পড়ে বন্দর থানার উত্তরাঞ্চল তথা মদনপুরের কামু-সুরত আলী বাহিনীর নৃশ^ংসতার কথা প্রিন্ট মিডিয়ার ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ২০০৫ সালে কামুর বড়ভাই আবুল সোনারগাঁয়ের নয়াপুরে ভয়ানক প্রতিপক্ষ সুরত আলীকে হত্যা করে তার মাথাটি কেটে বাজারের ব্যাগে করে নিয়ে অলিপুরা কবরস্থানে ফেলে যায়। সুরত আলীর মৃত্যুরপর বাহিনীর দায়িত্ব নেয় তারই সেকেন্ড ইন কমান্ড কাবিলা ও মকবুল।
মকবুল ও কাবিলার নেতৃত্বে সুরত আলী হত্যার প্রতিশোধ নিতে ২০০৫ সালের মে মাসে খুন হয় কামুর আরেক সহযোগী দেলোয়ার। এর কিছুদিন পর পুলিশের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হয় মকবুল। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় কাবিলা। বাইরে অবস্থান করে অপর সহযোগী মুরগী খলিলকে দিয়ে সুরত আলী বাহিনীকে সংগঠিত করে কাবিলা। অপরদিকে কামু বাহিনীর দায়িত্ব নেয় তার ছোটভাই মনু। স্থানীয়রা জানায়, মুলত রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় মদনপুর সন্ত্রাস ও খুনের ভয়াল জনপদে পরিণত হয়েছিলো। এরপর সন্ত্রাস দমনে র্যাব গঠন ও পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুনোখুনীতে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বহুল আলোচিত কামু-সুরত আলী বাহিনীর নাম মুছে যায়।
তবে এই কুখ্যাত বাহিনীর অস্ত্র ভান্ডার মদনপুরেই কয়েকজনের কাছে রক্ষিত আছে। এদের অন্যতম গ্রেফতারকৃত কাবিলা ও খলিল মেম্বার। এ দুজন মদনপুরে জুটি হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে যুক্ত। সন্ত্রাসী কাবিলা সম্প্রতি নয়াপুর এলাকায় তার বাহিনী ভাড়ায় গিয়ে ৩টি পিস্তল উচিয়ে স্থানীয় আক্কাস আলীকে হত্যার হুমকি দেয় এবং চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী কাবিলার বিরুদ্ধে শত শত গ্রামবাসী গণ স্বাক্ষর দিয়ে পুলিশ মহা পরিদর্শকের দফতরে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছিল।
সর্বশেষ কাবিল ওরফে কাবিলা বিএনপির হওয়ায় ও তার মূল ছায়াদাতা সুরজ মিয়া। যাকে অনেকে আদৌ চিনেন ননা। মদনপুরের সুরুজ মিয়া একটি আতংকের নাম। কামু-সুরুত বাহিনীর অবসানের পর নিজে তেরি করে একটি গ্রুপ। কাবিল ওরফে কাবিলা সেই গ্রুপের অন্যতম প্রধান। যার বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ বহু মামলা রয়েছে। মদনপুর হতে এশিয়ান হাইওয়ে রোডের পশ্চিমপাশের জায়গা দখল করতে যায় সুরুজ মিয়া। স্থানীয় কবি বাতেন বাহারের দখলের জায়গা জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে ব্যার্থ হয়। ওই জায়গা সুরুজ মিয়া লালিত ক্যাডার কাবিল ড্রেজার দিয়ে ভরাট করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় ঠান্ডা মাথার কিলার সুরুজ মিয়া। ত্রাস কাবিলকে সরিয়ে দেয়। আর কাবিলা বিএনপির হওয়ায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারীতে পরে। সুরুজ মিয়া তার নিজস্ব লোক দিয়ে গড়ে তুলে বিশাল একটি ত্রাস বাহিনী।
কাবিলা নীরব হলেও খলিল মেম্বারকে দিয়ে ত্রাসের আরো ২ টি গ্রুপ করে। যে গ্রুপে সেভেন মার্ডারে মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী রয়েছে। যে কারনে ২০১৯ সালের শুরু হয় মদনপুরের অরজগতা ও খুনাখুনি দিয়ে। মদনপুরে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হয় বন্দর থানা পুলিশের একাধিক সদস্য। হোসিয়ারি শ্রমিক আশিক হত্যাকান্ড, বাবু নামের একজন আহত হয়। যে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে বন্দর থানার ওস