1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
বন্দরে শতবর্ষী মাটির মটকা উদ্ধার, সংরক্ষণের দাবি - যুগের নারায়ণগঞ্জ
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

বন্দরে শতবর্ষী মাটির মটকা উদ্ধার, সংরক্ষণের দাবি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি পুরোনো ভবন ভাঙার সময় শতবর্ষী একটি মাটির মটকার সন্ধান পাওয়া গেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মটকাটি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ভবনের সিঁড়ির নিচে খোলা অবস্থায় অক্ষত পড়ে ছিল।

শনিবার নাসিকের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি দুইতলা ভবনের নিচতলা থেকে মটকাটি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে শত বছরের পুরোনো নিদর্শন হিসেবে ধারণা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ শতক জমির উপর নির্মিত ‘কিশোর ভবন’ নামের এই বাড়িটি ২৬ বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ওমর আলীর কাছ থেকে ক্রয় করেন আব্দুল হাকিম ও তার তিন ভাই। এরপর থেকেই তারা পরিবারসহ ভবনটিতে বসবাস করে আসছিলেন। এর আগে তারা বন্দর ইউনিয়নের ছনখোলা এলাকায় থাকতেন।

সম্প্রতি ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম জানান, “প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করলেও অবশেষে প্রায় পাঁচ মাস আগে ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি আরও বলেন, “তিন মাস আগে ভবনের ইট-সুরকি স্থানীয় কাজল প্রধানের কাছে বিক্রি করি। পরে তিনি মিস্ত্রি দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করেন। তবে আমরা বাড়ি কেনার পর থেকেই সিঁড়ির নিচে মাটির পাত্রটির মুখ দেখতে পেতাম। কৌতূহলবশত ভেতরে তাকালে শুধু পানি আর মাটি দেখা যেত।”

ভবন ভাঙার দায়িত্বপ্রাপ্ত মিস্ত্রি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, “দুই মাস আগে কাজ শুরু করি। তখন থেকেই সিঁড়ির নিচে মুখ খোলা অবস্থায় একটি মাটির পাত্র দেখতে পাই। পরে পুরো ভবন ভাঙার পর মাটির নিচ থেকে বড় আকৃতির মটকাটি বেরিয়ে আসে। ভেতরে পানি, মাটি এবং কিছু ইট-সুরকি ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নাসিক ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, “এটি প্রাচীন আমলের একটি নিদর্শন হতে পারে। আগে মানুষ এসব পাত্রে গুপ্তধন বা শস্য সংরক্ষণ করত। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।” তিনি এলাকাবাসীকে মটকার আশেপাশে ভিড় না করার জন্যও সতর্ক করেন।

বাড়ির আরেক মালিক প্রয়াত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সাবরিনা ইসলাম লতা বলেন, “আমরা ২৬ বছর ধরেই সিঁড়ির নিচে এই মাটির পাত্রটি দেখে আসছি। তবে পুরোটা কখনো দেখা যায়নি। এখন ভবন ভাঙার পর বড় মটকাটি দেখে আমরা নিজেরাও অবাক হয়েছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরুল আহসান জানান, “এই এলাকায় আগে রূপালী জুট মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাস ছিল। তখনকার সময় পাট আমদানি করে প্রক্রিয়াজাত করা হতো এবং এখানকার বাসাবাড়িগুলোতেও তাদের উপস্থিতি ছিল।”

মটকাটি পাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে এটি সংরক্ষণের দাবি জোরালো হয়েছে। বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম জানান, “অনেকে এটিকে মসজিদে সংরক্ষণের কথা বলেছেন। আমরাও চাই এটি সংরক্ষণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।”

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী কাস্টোডিয়ান (পানাম নগর) তানজিলুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় শত বছর পুরোনো। অতীতে মানুষ এ ধরনের মাটির পাত্রে পানি বা শস্য সংরক্ষণ করত। আবার অনেক সময় ভবনের নিচে পাত্র পুঁতে রেখে ঘর ঠান্ডা রাখারও প্রচলন ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মটকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশা, যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই প্রাচীন নিদর্শনটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে টিকে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট