
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখা ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঢাকার আজিমপুর হোমটেক টাওয়ারের বাসিন্দা মাসুদুর রহমান খানের ছেলে জুন্নুন রহমান খান (১৬) এ চক্রের ফাঁদে পড়েন। টেনটেন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে পরিচয় হয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুন্নুনের। সেই পরিচয় সূত্রে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে বন্দর খেয়াঘাটে আসেন হানিট্র্যাপের শিকার জুন্নুন। সেখান থেকে চক্রের একজন তাকে রিকশাযোগে মদনগঞ্জ শান্তিনগর ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় এবং আগে থেকে অবস্থান করা আরো ৫-৬ জন মিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী জুন্নুনকে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা ৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা। পরে জুন্নুনের বড় ভাই ইফফাতুর রহমানের কাছে ফোন করে আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করে।
পরবর্তীতে জুন্নুনের পরিবার ঘটনাটি র্যাব অফিসে জানান এবং প্রতিকার চাইলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যাব-১১-এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতেই প্রতারণার শিকার জুন্নুন রহমানকে উদ্ধার করার পাশাপাশি চক্রের হোতা মো. আকাশ, মো. সিয়াম, ফয়সাল, সঞ্জয় শীল এবং বায়োজিদকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জুন্নুনের মা লিওজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা ‘ফাঁদ পেতে মুক্তিপণ’ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এ চক্রের কাজই ছেলেদের কৌশলে ডেকে এনে ব্ল্যাকমেল করা। তারা জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।