
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক পল্লী চিকিৎসকের কথিত ভুল চিকিৎসায় রতন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ফতুল্লার লালখাঁর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রতন বিশ্বাস সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার চন্নার চর গ্রামের মৃত রোমান্ত বিশ্বাসের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ ফতুল্লার লালখাঁর মোড় এলাকায় খালেক মাতবরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন রতন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শরিফুল ইসলামকে বাসায় ডেকে আনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই চিকিৎসক রতনকে একটি ইনজেকশন প্রয়োগ এবং স্যালাইন পুশ করার কিছুক্ষণ পরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
নিহতের স্ত্রী অনিতা বিশ্বাস জানান, “ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রতন কাঁপতে শুরু করে এবং কান্না করছিল। তখন দ্রুত স্যালাইন খুলে ফেলা হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।”
প্রথমে তাকে শহরের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা রতনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবুল বাশার জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা বিষক্রিয়ার কারণে রতনের মৃত্যু হতে পারে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে নিহতের বাসা থেকে পল্লী চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ জব্দ করেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপ্রশিক্ষিত পল্লী চিকিৎসকদের অবাধ চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।