
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় চাঁদাবাজদের বেপরোয়া তাণ্ডবে রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রকাশ্যে চাঁদা না দেওয়ার “অপরাধে” ‘ফুডল্যান্ড’ নামের একটি কারখানায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার (৩ মে) ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় শান্তিধারা এলাকায় সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিরীহ শ্রমিক ও কর্মচারী আহত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী শাহাদাৎ হোসেন ওরফে ‘পুলিশ শাহাদাৎ’ এবং মান্নান শাহাদাতের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।
এর পূর্বেও একাধিক অপকর্মের কারণে নানানভাবে বিতর্কিত শাহাদাত পুলিশ জেলা কারাগারেও যেতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ করেই কারখানায় ঢুকে পড়ে এবং শুরু করে নির্বিচার ভাঙচুর।
তারা আসবাবপত্র গুড়িয়ে দেয়, উৎপাদন ব্যবস্থাকে অচল করে ফেলে এবং লুটে নেয় মূল্যবান মালামাল। হামলার সময় দুটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যবসায়িক গাড়ি, নগদ টাকা, শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, এলপিজি সিলিন্ডার, ওভেনসহ বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।
কারখানার মালিকের স্ত্রী শারমিন সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কয়েকদিন ধরেই তাদের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সরাসরি হামলার হুমকি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার পর হঠাৎ এমন সন্ত্রাসী চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
কারখানার ম্যানেজার হারুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, “প্রথমে আমার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তারা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া কভার্ড ভ্যান, দরজা-জানালা, ফ্রিজ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে ফেলে।”
হামলার সময় পুরো কারখানাজুড়ে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা।
আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত বড় সন্ত্রাসী হামলা, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের পরও এসব চক্র কীভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠে ?
প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দুঃসাহসিক অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই এখন উঠেছে বড় প্রশ্ন।