
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, জনগণ এখন মেরুদণ্ডসম্পন্ন প্রশাসন দেখতে চায়, যারা দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে শহরের চাষাড়া সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, “প্রশাসনের বন্ধুদের বলতে চাই—আপনারা একজন বহিষ্কার হলেই তাকে অ্যারেস্ট করেন। এর আগে সাহস পান না, কারণ সে সরকারি দলের পদে আছে। এইরকম প্রশাসন জনগণ চায় না। জনগণ চায় অপরাধী সে যেই দলের হোক, প্রশাসন যেন তাকে ধরতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতেও দেখেছি—একজন চাঁদাবাজ বা খুনিকে দল থেকে বহিষ্কার করার আগে প্রশাসন গ্রেফতার করে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে যদি আপনারা দলীয় নোটিশের অপেক্ষায় বসে থাকেন, এই ধরনের মেরুদণ্ডহীনতা নারায়ণগঞ্জের মানুষ আর সহ্য করবে না।”
সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের নেতাকর্মীরা যদি চাঁদাবাজি, দখলদারি বা গুলি চালায়, আমরা বসে থাকব—এটা আশা করবেন না। আমরা পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে থানা-জেলা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”
প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করে, আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দলীয় লোকদের প্রটেকশন দেয়, জনগণ তাদের বেশিদিন ছাড় দেবে না।”
গণভোট ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে অনেকে তাদের অতীতের অবস্থান ভুলে গেছে। আগে যারা ৭২-এর সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলত, এখন সেটাকেই সমর্থন করছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ক্ষমতায় গেলে তাদের কাছে মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—সবকিছু গুরুত্ব হারায়। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা এসব নিয়েই আন্দোলন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতার মধু পেয়ে অনেকে জনগণের প্রত্যাশা ভুলে গেছে। আমরা তাদের বলতে চাই—এভাবে চললে জনগণের ঘৃণার শিকার হতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আবারও পুরনো সন্ত্রাসী সংস্কৃতির লক্ষণ দেখছি—গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি ফিরে আসছে। এসব বন্ধ করতে হবে।”
১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রত্যেক এলাকায় অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। জনগণের অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলন আমাদের নতুন পরিচয়। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারলে দেশ আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে যাবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে থাকতে হবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, এবি পার্টির মহানগর সভাপতি শাজাহান বেপারি, খেলাফত মজলিস মহানগর সভাপতি ইলিয়াস আহমাদ, এনসিপির মহানগর আহবায়ক শওকত আলী প্রমূখ।