
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় করা হত্যা চেষ্টা মামলার এক আসামি থানা হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে এর আগের দিন সোমবার (৩০ মার্চ) আড়াইহাজার থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত ২৩ ও ২৪ মার্চ উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের চরকমলাপুর এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুল্লাহ (৩৭), মাছুম (৩৫), ইয়াহিয়া (৫০), ইয়ানুছ (৪০), ইসমাঈল (৩০), জালাল (২৮), জাকারিয়া (৪৮), ইয়াছিন (২০), হাবিরুল্লাহ (৬০), মাহাবুল্লাহ (৫৫), রোমান (২৬), সবুজ (৩০), জুয়েলসহ (২২) অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরকমলাপুর এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে ইসমাঈলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে থানার একটি কক্ষে বসানো হলে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। থানার সিসিটিভি ফুটেজেও এ ঘটনার প্রমাণ রয়েছে বলে তারা জানান।
জানা গেছে, উপপরিদর্শক (এসআই) অজিত কুমার তাকে থানায় নিয়ে আসেন এবং পরে সেকেন্ড অফিসার এসআই জহিরুল ইসলামের কক্ষে বসানো হয়। সেখান থেকেই তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই অজিত কুমার বলেন, ইসমাঈলকে থানায় ডাকা হয়েছিল। কথা শেষে তিনি চলে যান। পরে থানায় গিয়ে তাকে আর পাওয়া যায়নি। হয়তো পুলিশ দেখে দৌড়ে পালিয়ে গেছে। আমরা অভিযান চালাচ্ছি, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
অন্যদিকে সেকেন্ড অফিসার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো আসামির বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে এখনও স্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।